শুক্রবার, জুন ১৪, ২০২৪

নেত্রকোনায় বিদ্যুৎের লাইন নির্মানে খুঁটি, ট্রান্সফরমার ও তার (ক্যাবল) বাবদ অর্থ বাণিজ্য নির্বাহী প্রকৌশলীর

যা যা মিস করেছেন



  • নতুন ১০ খুঁটিতে এক লাখ, ট্রান্সফরমারে জন্য ৩০ হাজার এবং শ্রমিকের মজুরি ও পূর্বে স্থাপিত ৯ খুুঁটিসহ ১৯ খুঁটি তারের (ক্যাবল) মূল্য বাবদ ৭০ হাজার মোট দুই লাখ টাকা নেন নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষে তার নিকট আত্মীয়।

  • দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ না পেয়ে নেত্রকোনা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে অবস্থান নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রায় শতাধিকের বেশি গ্রামবাসী।
  • এক প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার দিয়ে আরেক প্রকল্পের কাজ করান নির্বাহী প্রকৌশলী।


কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন: নেত্রকোনা সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের যোগাটি গ্রামে বিদ্যুৎের নতুন লাইন নির্মানের কথা বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাহামুদ এলাহী ওরফে মুন্নার পক্ষে যোগাযোগ করেন তার নিকট আত্মীয় নজরুল (নজরুলের চাচাতো বোনের দেবর নির্বাহী প্রকৌশলী)। নিকট আত্মীয়ের কথায় আশ্বস্থ এবং বিপিডিবি’র বিদ্যুৎের সংযোগ পাবার আশায় ৬০-৭০ জন গ্রামবাসী তিন দফায় যে যার মতো চাঁদা দিয়ে দুই লাখ টাকা প্রদান করেন নজরুলকে এবং এলাকাবাসীর পক্ষে গ্রামের কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথেও দেখা করেন কয়েকবার।

খুঁটি ও ট্রান্সফরমার বসানোর কয়েক মাস পার হলেও স্থাপিত খুঁটিতে তার (ক্যাবল) ঝুলানোর কাজ না হওয়ায় গত মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ, জামাল খাঁ, রহিছ মিয়া, আব্দুল জলিল, জরিফ খাঁ, আজিুজুল, আজিজ খাঁ, গণি মিয়াসহ প্রায় শতাধিকের বেশি গ্রামবাসী নেত্রকোনা বিপিডিবি কার্যালয়ে অবস্থান করেন। বন্ধের দিন থাকায় ও নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ে না আসায় অবস্থানকারীরা ফিরে যান। পরে তারা আবার আসবেন বলে জানিয়ে যান।

যোগাটি গ্রামের প্রায় শতাধিকের বেশি গ্রামবাসী গত মঙ্গলবার (২২ মে) নেত্রকোনা বিপিডিবি কার্যালয়ে অবস্থান

যোগাটি গ্রামের রহিছ মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট আত্মীয় সালজান গ্রামের নজরুল আমাদের এলাকার পাল বাড়ি থেকে যোগাটি মসজিদ পর্যন্ত ১০ খুঁটি এবং এলাকায় পূর্বে স্থাপন করা আরও নয়টি খুঁটির পুরাতন ক্যাবল বদল ও চুচুয়া বাজারে ১০০ কেভি ট্রান্সফরমার পরিবর্তন করে ২৫০ কেভি ট্রান্সফরমার স্থাপন করে দেওয়ার কথা বলেন। নজরুলের মাধ্যমে প্রথমে খুঁটি বাবদ এক লক্ষ টাকা দিলে ঠিকাদার ফিরোজের মাধ্যমে খুঁটি স্থাপন করা হয়। পরে ট্রান্সফরমার ঢাকা থেকে আনা ও শ্রমিকের খরচ বাবদ আরও ৩০ হাজার দাবী করলে টাকা পরিশোধ করা হয়। পুরাতনটা পরিবর্তন করে সেখানে ২৫০ কেভির ট্রান্সফরমার বসানো হয়। এরপর ক্যাবল ঝুলানোর জন্য আরও ৭০ হাজার টাকা চাইলে সেই টাকাও দেওয়া হয়েছে। ৬০-৭০ জন গ্রামবাসী যে যার মতো টাকা দিয়ে তিন দফায় দুই লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়। নজরুলের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী সাথে আলাপ আলোচনার শুরু থেকে ক্যাবল টানানোর টাকা পরিশোধ পর্যন্ত আমরা কয়েক দফায় দেখা করে কথা-বার্তা বলি। তিনি (নির্বাহী প্রকৌশলী) বলেন টাকা পেয়েছি কাজ হয়ে যাবে বলেন। নজরুলের মাধ্যমে আলাপ আলোচনার পর নির্বাহী প্রকৌশলী নিজে ও তার লোকজন একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। খুঁটি বসানোর কাজ শুরুর আগে ও পরে অনেকবার এলাকা ঘুরে গেছেন তিনিসহ তার লোকজন। কিন্তু তিন মাসের বেশি সময় পার হলেও তার ঝুলানো হয়নি। কিছুদিন আগে পুরাতন লাইনের তার ছিড়ে পড়ে থাকায় বিদ্যুতের শকে গ্রামের একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাও নিয়েছেন।

নেত্রকোনা বিপিডিবি’র লাইনম্যান খোকা মিয়া বলেন, নজরুল নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের কাছে প্রায় সময়ই আসেন। তাদের মধ্যে কি কি বিষয়ে কথা-বার্তা হয় তা জানা নাই। তবে স্যারের জমি-জমা দেখ ভাল করেন নজরুল এর বেশি কিছু জানেন না তিনি।

নির্বাহীর প্রকৌশলীর আত্মীয় এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে সালজান গ্রামের নজরুল বলেন, আমাকে যদি তারা, কে দিয়েছে টাকা বলতে পারেন অবশ্যই টাকা ফেরত দিব। টাকা দেওয়ার এ কথা তারা যদি বলে থাকেন, হয় শাস্তি আমার হবে না হয় তাদের হবে। তারা আমার কাছে আসুক। আমাকে তারা কি দিয়েছে, না দিয়েছে তার রেকর্ড, ডকুমেন্ট সবই আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঠিকাদার ফিরোজ নেত্রকোনায় ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার। এ ব্যাপারে ফিরোজ বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর স্যারের অনুরোধে কাজটি করে দিয়েছি। কাজের বিপরীতে কার্যাদেশ ও নক্সা দেখাতে বললে তিনি বলেন, অফিসে আছে ও নক্সাটি ডিভিশনের। অলি ঠিকাদারের কাজটি স্যার (নির্বাহী প্রকৌশলী) করে দিতে বলেছে করে দিয়েছি। এক প্রকল্পের কাজে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে অন্য প্রকল্পের কাজের বিল কীভাবে পাবেন এর বিপরীতে সঠিক জবাব দিতে পারেননি তিনি। পরে ডিভিশনের ঠিকাদার অলির বাংলালিংক ও গ্রামীনফোন নাম্বারের যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

বিপিডিবি’র নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাহামুদ এলাহীকে গত মঙ্গলবার নজরুলের পরিচয় জানতে চাইলে চিনেন না দাবী করেন। বুধবার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে তিনি একপর্যায়ে নজরুলকে চিনেন বলে জানান এবং দুই লাখ দেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।

প্রিয় পাঠক অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্যামেইলবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন themailbdjobs@gmail.com ঠিকানায়।

More articles

সর্বশেষ