মঙ্গলবার, জুলাই ২৩, ২০২৪

নেত্রকোণায় প্রতারণা মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে

যা যা মিস করেছেন

কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন: চাকুরি দেবেন বলে টাকা নিয়েছিলেন নেত্রকোনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু চাকুরি তো হলোই না, শেষে হাতিয়ে নেওয়া টাকাও ফেরত দেননি ওই শিক্ষক। দীর্ঘদিন টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েও না দেয়ায় বাধ্য হয়ে মামলা করেন ভুক্তভোগী আল আমিন (২৬) নামের এক যুবক।

রবিবার আদালতে মামলার হাজিরা দিতে গেলে বিচারক অভিযুক্ত শিক্ষক এসএম সাজ্জাদুল হককে (৫৫) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সাজ্জাদুল হক বারহাট্টা উপজেলার আশিয়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আর ভুক্তভোগী আল আমিন একই উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল হক ও আল আমিন পূর্ব পরিচিত। গত এক বছর আগে নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়িচালক পদে আবেদন করেন আল আমিন। চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাজ্জাদুল হক ভুক্তভোগী আল আমিনের কাছ থেকে ঘুষ বাবদ পাঁচ লাখ টাকা নেন। কিন্তু চাকুরি না হওয়ায় শর্ত অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেননি। এ নিয়ে আল আমিন গত ২৭ ডিসেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু প্রতিকার না পেয়ে গত ৮ ফেরুয়ারি নেত্রকোনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন আল আমিন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওই দিন সাজ্জাদুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জরি করেন। সাজ্জাদুল হক উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় আজ (রবিবার) নেত্রকোনা নি¤œ আদালতের জামিনের জন্য আত্মসমর্পন করেন। আদালত তাঁর জামিন নামুঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

মামলার বাদীর আইনজীবী মীর্জা হুমায়ুন এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযুক্ত এসএম সাজ্জাদুল হক এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন। জামিনের শর্তানুযায়ী রবিবার নেত্রকোনা চিফ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
বাদী আল আরও আমিন বলেন, ‘সাজ্জাদুল হককে এলাকার অনেকের সামনে টাকা দিয়েছি। চাকরি না হলে টাকা ফেরত দেবেন বলেছিলেন। এখন চাকরিও হয়নি, টাকাও দিচ্ছেন না। তাই তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আশা করছি ন্যায় বিচার পাব।

বারহাট্টা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘একটি মামলায় প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুলকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে খবর পেয়েছি। এ সম্পর্কিত কাগজপত্র পাওয়ার পর নিয়মানুযায়ী তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে।’

উল্লেখ্য- দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে গত ৬ ডিসেম্বর নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থীর সভায় হাজির হয়ে ওই প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান শিক্ষক সাজ্জাদুল হক। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ পারভেজ। পরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে কর্তৃপক্ষ।

অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।

প্রিয় পাঠক অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্যামেইলবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন themailbdjobs@gmail.com ঠিকানায়।

More articles

সর্বশেষ