বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪

ফুলছড়ির চরাঞ্চল জুড়ে ভুট্টা ক্ষেত, পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা

যা যা মিস করেছেন

রিপন মিয়া, ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা’র চরাঞ্চল জুড়ে অধিক পরিমান জমিতে ভুট্টা চাষ করছেন কৃষকেরা। পাশাপাশি পরিচর্যায় ব্যাস্ততার মধ্য দিন পার করছেন তারা। ফুলছড়িতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী, ফজলুপুর, ফুলছড়ি, গজারিয়া, উড়িয়া, কঞ্চিপাড়া ও উদাখালী ইউনিয়নের ফসলী মাঠ নদী বিধৌত হওয়ায় এবং পলিযুক্ত মাটি খুব উর্বর। তাই এসব এলাকার চরাঞ্চলে ভুট্টার অধিক ফলন হয়ে থাকে। সরেজমিনে চরাঞ্চলের মাঠগুলো ঘুরে ভুট্টা চাষের এই দৃশ্য দেখা গেছে। যেখানেই চোখ যায় শুধু বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ভুট্টা ক্ষেত দেখা যায়। কম খরচে অধিক মুনাফা অর্জনের ফলে দিন দিন ভুট্টা চাষের জন্য কৃষকরা ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ডাকাতিয়া চর গ্রামের কৃষক মুক্তার হোসেন রানা বলেন, গত বছর ভুট্টা চাষ করে বাম্পার ফলন হয়েছে এবং এর দামও ভালো পেয়েছি। ভুট্টা চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। এতে আমি বেশ লাভবান হয়েছি। তাই আমি এ বছর ৪ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। আশা করি এ বছরও ভুট্টার ভালো ফলন হবে।

উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চর খাঁটিয়ামারী গ্রামের ভুট্টা চাষী রহমান মিয়া জানান, ধানের তুলনায় ভুট্টা চাষ করতে খরচ কম। ফলে ভুট্টা চাষ লাভজনক।
বর্তমানে আমি ভুট্টার ক্ষেতে সেচ দিচ্ছি। মাসের শেষ দিকে ফলন ঘরে তোলা যাবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের বাজে ফুলছড়ি গ্রামের ভুট্টা চাষী মনোয়ার হোসেন জানান, অন্য ফসলের চেয়ে খরচ কম হওয়ায় জমিতে ভুট্টা চাষ করি। এতে বেশি লাভবান হওয়া যায়। আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করলে ১৫ থেকে ২০ মণ ধান হয়। অন্যদিকে এক বিঘা জমিতে ভুট্টা হয় ৩০ থেকে ৩৫ মণ। ভুট্টা চাষে সেচ কম লাগে, সারের ব্যবহারও কম। আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের মতো এবারও ভুট্টার বেশি ফলন হবে।

এছাড়াও উপজেলার আরও কয়েকজন ভুট্টা চাষি বলেন, প্রতি শতক জমিতে প্রায় ২মন করে ভুট্টা উৎপাদিত হয়। যা উৎপাদনের খরচের চেয়ে দ্বিগুন লাভ হয়। শুধু তাই নয় ভুট্টার কান্ড জ্বালানি,গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে পাতা ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ভুট্টার আটা, মৎস খাদ্য, মুরগীর খাবার সহ নানা তালিকায় রয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৫ থেকে ৬ কেজি ভুট্টার বীজ ব্যবহার করা যায়।

ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার মিন্টু মিয়া বলেন, চলতি বছরে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৫ হাজার ৮শত ৫০ হেক্টর জমি। গত বছর ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছিল ৫ হাজার ৬শত ৫০ হেক্টর জমি। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভুট্টার ভালো ফলন হবে বলে আমি আশা করি। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদেরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। অল্পদিনে ও কম খরচে ভুট্টাচাষ হওয়ায় এখানকার কৃষকেরা ভুট্টাচাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছে। কম পুঁজি, ঝুঁকিহীন, সেচ ও সার প্রয়োগের ব্যবস্থা থাকায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এছাড়া সরকার কৃষি প্রণোদনা স্বরূপ কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন।

অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।

প্রিয় পাঠক অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্যামেইলবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন themailbdjobs@gmail.com ঠিকানায়।

More articles

সর্বশেষ

মদনে সফল ইউএনও মো: শাহ আলম মিয়া