রবিবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৪

টিসিবি পণ্য বিতরনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে

উপকারভোগীদের কার্ড থাকে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের হেফাজতে

যা যা মিস করেছেন

কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন : নেত্রকোণার কলমাকান্দায় টিসিবি পণ্য বিতরনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদের চেয়ারম্যান ও এক ইউপি সদস্যের (মেম্বার) বিরুদ্ধে। টিসিবি পণ্য ক্রয়ে কার্ডধারীদের কার্ড থাকার কথার উপকারভোগীদের হেফাজতে। কিন্তু উপকারভোগীদের কার্ড থাকে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের হেফাজতে।

অভিযুক্তরা হলেন- কলমাকান্দার পোগলা ইউপির চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল মিয়া (৪৮) ও একই ইউপির পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. বিল্লাল মিয়া (৪২)।

গত বুধবার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে উপকারভোগীদের পক্ষে এমন বিষয়ে অভিযোগ জমা দেন একই ইউপির ধোপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম বিশ্বাস আনিছ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউপি পরিষদের অনুকূলে হতদরিদ্র শ্রেণির লোকজনের মাঝে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য সরকার টিসিবি কার্ড প্রদান করেছে। চেয়ারম্যান মোজাম্মেল ও মেম্বার বিল্লাল মিয়া তারা বিগত কয়েক মাস যাবত প্রকৃত টিসিবি কার্ডধারী গ্রাহকদেরকে পণ্য না দিয়ে কার্ডগুলো তাদের হেফাজতে রেখে দেন। তাদের ইচ্ছামাফিক নিয়ন্ত্রিত লোকজনের মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে টিসিবি পণ্য বিতরন করে থাকেন। এতে প্রকৃত কার্ডধারীরা প্রতারনার শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে কার্ডধারীদেরকে মিথ্যা অজুহাতে হয়রানি ও দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন চেয়ারম্যান ও মেম্বার।

এ বিষয়ে ইউপি মেম্বার মো. বিল্লাল মিয়া বলেন, কার্ডগুলো আমাদের না, ডিলারের হেফাজতে থাকে। আমরা কারো কাছ থেকে ঘুষ নেয়নি এবং এতে আমাদের মাতব্বরি নেই। আমরা কার্ড তৈরি করে দিয়ে দিয়েছি। পরের কাজটি ডিলারের সাথে সম্পর্কিত। পরিষদের মেম্বারের সাথে কার্ডের সম্পর্ক কি?

চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল মিয়া বলেন, অনলাইনে এমআইএস করার জন্য কার্ডগুলো সংগ্রহ করতে হয়েছে। এরমধ্যে ডিলার টিসিবি পণ্য নিয়ে আসলে পণ্য বিতরনের সুবিধার্থে উপকারভোগীদের কার্ড ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন চেয়ারম্যান।

ট্যাগ অফিসার মিহির চন্দ্র সরকার বলেন, গত চার-পাঁচ মাস যাবত আমবাড়ি বিতরন কেন্দ্রের দায়িত্বে আছি। আগে মনকান্দা ও আমবাড়ি কেন্দ্রে এক হাজার সাতশো কার্ডধারীর পণ্য বিতরন হতো। দুই কেন্দ্রের কার্ডধারীদের পণ্য বর্তমানে আমবাড়ি কেন্দ্রে বিতরন করা হয়। অন্যান্য ইউনিয়নের মতো এই ইউপির কার্ডগুলোতে নম্বর দেওয়া নাই। ডিলারের মতামতে টিসিবি পণ্য বিতরন শেষে কার্ডগুলো রেখে দেওয়া হয়। পরে কার্ডগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সচিবের হেফাজতে থাকে।

ডিলার অমর দাসের হয়ে কাজ করেন সাইদুর মিয়া। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পণ্য বিতরন শেষে কার্ডগুলো চেয়ারম্যানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ইউএনও আসাদুজ্জামান বলেন, গত মঙ্গলবার আমবাড়ি স্থানে ডিলার পণ্য নিয়ে আসলে এই স্থানে জিল্লাল নামে এক ব্যবসায়ী কার্ডধারীদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করার দায়ে তাকে আটক করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ট্যাগ অফিসার বাদী হয়ে মামলা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।

প্রিয় পাঠক অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্যামেইলবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন themailbdjobs@gmail.com ঠিকানায়।

More articles

সর্বশেষ