রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৪

দুর্গাপুরে ১২ দিন ধরে বন্ধ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

যা যা মিস করেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চালক না থাকায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা ১২দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ সেবা না পেয়ে উপজেলার মানুষের ভরসা এখন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস অথবা সিএনজি চালিত অটোরিকশা। ফলে বাড়তি ভাড়াসহ চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।

দুর্গাপুর উপজেলার প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার লোকজনও চিকিৎসা নেন এখানে। প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে শতাধিক লোক চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। এরমধ্যে সড়ক দূর্ঘটনা, প্রসূতি মা ও মারামারিটসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা। এতবড় একটি উপজেলার জন্য মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স আছে। তাও এখন চালানোর লোক নেই। যার কারণে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ অ্যাম্বুলেন্স চালক দেড় বছর আগে সাময়িক বহিষ্কার হয়েছিল। গত দেড় মাস আগে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান সেই চালক। দেড় বছর ধরেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার জিপ গাড়ির চালক দিয়েই চালানো হয়েছিলো অ্যাম্বুলেন্স। গত ৯ জানুয়ারি দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগী (সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক ও মা) কে নিয়ে যাওয়া নিয়ে স্বজনদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া চান চালক শাহাদাত হোসেন। ওই ভাড়া নিয়ে দাম কষাকষিতে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলে ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়। এরপরে ১০ জানুয়ারি শাহাদাত হোসেনকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালানো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনার পর থেকেই এ পর্যন্ত ১২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। দীর্ঘদিন অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজ বন্দি থাকায়, যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসা হাসান বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকার কারণে মূলত গরীব অসহায় আর দুস্থ্য রোগীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। যার জন্য বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া গুণতে গিয়ে অনেক গরীব রোগীকে মূল চিকিৎসার খরচে ভাটা পড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, হাসপাতালে যে সকল জরুরি রোগীদের আনা হয় তার বেশিরভাগ রোগীকেই ময়মনসিংহে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই সুযোগটা হাতিয়ে নিচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা জানান, অ্যাম্বুলেন্স চালক চেয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চালক পেলেই সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হবে।

অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।

প্রিয় পাঠক অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্যামেইলবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন themailbdjobs@gmail.com ঠিকানায়।

More articles

সর্বশেষ