স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোরঃ ১৯৪৮ সালে রোপিত বীজ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হয়ে ১৯৬৬ সালের ৬ দফার লেলিহান শিখায় ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের গণজোয়ারের পরিপূর্ণরূপ নিয়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতার আবহে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বটবৃক্ষকে ন্যায় মহীরুহ রূপ ধারন করে।যা ৯ মাসের কঠোর আন্দোলন – সংগ্রামে অংশ গ্রহনকারী মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ নিরীহ জনগণের মধ্যে ত্রিশ লক্ষ শহীদদের রক্ত ও মা-বোনের লুন্ঠিত সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
আজ বিজয়ের সেই মহেন্দ্রক্ষণ।দিবসটিকে যথাযথ সম্মান ও মর্যদার মাধ্যমে পালনের উদ্দেশ্যে যশোরে নেওয়া হয়েছে নানা ধরনের কর্মসূচি।
তারই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হয়। এরপর যশোর শহরের মণিহার চত্বরে বিজয়স্তম্ভে ফুল দেয়ার মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে যশোরবাসী।
প্রথমে বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ প্রলয় কুমার জোয়ারদার, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন,সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার(এমপি) সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয় ।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে বিজয়স্তম্ভে।
সকাল আটটা ৪৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এরপর বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে বিজয় দিবসের এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।
উপস্থিত হাজারো দর্শকের কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পর প্যারেডে অংশগ্রহণকারী দলের সালাম গ্রহণ করেন প্রধান ও বিশেষ অতিথি। এরপরই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা।
এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর জ্বালাময়ী ভাষণের মাধ্যমে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া, হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনা ও সমৃদ্ধ এবং উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের অদম্য অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি সুনিপূণভাবে ফুটিয়ে তোলেন শিক্ষার্থীরা।
আগামীর সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে বিজয়ের অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনাসহ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্থাস্থ্য এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কমানার সাথে সাথে হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় কারাগার, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার দেয়া হয়।


