মোঃ আতাউর রহমান “নড়াইল প্রতিনিধি”:
নড়াইল মুক্ত দিবস (১০ ডিসেম্বর)। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিপাগল দামাল ছেলেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত করে নড়াইলকে মুক্ত করে। সামগ্রিক মুক্তিযুদ্ধের বিশাল ক্যানভাসে নড়াইল দেশের একটি ক্ষুদ্র এলাকা হলেও মুক্তিযুদ্ধে নড়াইলের রয়েছে গৌরব উজ্জল ইতিহাস। শোষণ বঞ্চনাহীন সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার মুক্তি সংগ্রামের সেই চেতনা সঠিক বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় এখনও দিন গুনছেন এখানকার সেইসব বীরসেনারা।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে স্বাধীনতার যে আহ্বান ছিল নড়াইলের মুক্তিপাগল জনতা তা থেকে পিছপা হয়নি। ওই সময় নড়াইলের এসডিওর বাসভবনকে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের হাইকমান্ডের সদর দফতর করা হয়। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে তৎকালীন নড়াইলের এসডিও কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, এমএনএ খন্দকার আব্দুল হাফিজ, আওয়ামী লীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন লোহাগড়া হাইস্কুলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও নড়াইলের সংগঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের এক করে বিশাল বাহিনী যশোর অভিমুখে পাঠিয়ে দেন।
নড়াইলের মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দুই হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে লোহাগড়া উপজেলায় এক হাজার ২৯১ জন, কালিয়া উপজেলায় ৮২৫ এবং সদর উপজেলায় ৩১২ জন। যুদ্ধকালীন পাকবাহিনী ও রাজাকারদের ষরঙ্গ যুদ্ধে শহীদ হন ৩১ জন। এদের মধ্যে লোহাগড়া উপজেলায় ২৪ জন, কালিয়া উপজেলায় ৪ এবং সদর উপজেলায় ৩ জন।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে নড়াইলে পাঁচজন খেতাব প্রাপ্ত হন। তারা হলেন-বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ, বীর উত্তম মুজিবুর রহমান, বীর বিক্রম আফজাল হোসেন, বীর প্রতীক খোরশেদ আলম ও বীর প্রতীক মতিয়ার রহমান।
১৯৭১ সালে ১৪ ডিসেম্বর ৮ নম্বর সেক্টরের সেক্টর প্রধান মেজর মঞ্জুর নড়াইলে আসেন এবং মুক্তি পাগল হাজারো জনতার উপস্থিতিতে ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।


