নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত তালিকায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম চমক হিসেবে স্থান পেয়েছেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার সন্তান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মানছুরা আক্তার।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে টানা দুই দিন ধরে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড প্রায় ৯০০ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। দীর্ঘ ও চুলচেরা বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত তালিকায় তুলনামূলক তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে মানছুরা আক্তারের অন্তর্ভুক্তি দলের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিএনপির একাধিক নেতার মতে, তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার যে কৌশল দল গ্রহণ করেছে, তারই অংশ হিসেবে মানছুরা আক্তারকে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মানছুরা আক্তারের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্ররাজনীতির মাঠ থেকে। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থার কারণেই তাকে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তিনি পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে পূর্বধলা সদরে বসবাস করেন। সামাজিকভাবে তাদের পরিবার স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত। এলাকাবাসীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পৃক্ততা তাকে তৃণমূল পর্যায়ে একজন অত্যন্ত পরিচিত মুখ করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এবারের তালিকাকে অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের এক চমৎকার সমন্বয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। চূড়ান্ত তালিকায় তরুণ নেত্রী মানছুরা আক্তারের পাশাপাশি সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, নিপুণ রায় চৌধুরী ও হেলেন জেরিন খানের মতো দলের অভিজ্ঞ নেত্রীরাও জায়গা পেয়েছেন।
মানছুরা আক্তারের মনোনয়ন প্রাপ্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। ধলামূলগাঁও ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকেরা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ-উৎসব পালন করেন। স্থানীয় নেতাদের প্রত্যাশা, জাতীয় সংসদে সুযোগ পেলে মানছুরা আক্তার এলাকার সার্বিক সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন।
মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মানছুরা আক্তার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই অর্জন রাজপথের আন্দোলনে সম্পৃক্ত সব ছাত্রকর্মীর।” ভবিষ্যতেও দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা তৃণমূলের একজন নেত্রীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে এটি সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের জন্য ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তা হিসেবেও কাজ করবে।
