নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করেছে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের হাতে সরাসরি চেক তুলে দেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
এদিন অনুষ্ঠানে ছয়টি প্রকল্পের জন্য চেক প্রদান করা হয়। যার মধ্যে নেত্রকোনা সদর উপজেলার চারটি এবং অন্যান্য দুটি প্রকল্প রয়েছে। অনুষ্ঠানে ১২টি চেকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের ৫৪ লক্ষ ২৯ হাজার ৪১৫ টাকা প্রদান করা হয়।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার চেক হস্তান্তরের আগে জানান, জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরাসরি কনফারেন্স রুমে উন্মুক্তভাবে এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে চেকগুলো বিতরণ করা হচ্ছে।
এসময় তিনি উপস্থিত চেক গ্রহীতাদের কাছে সরাসরি জানতে চান চেক পেতে তাদের কোনো টাকা বা ঘুষ দিতে হয়েছে কি না, যার উত্তরে গ্রহীতারা জানান তাদের কোনো হয়রানির শিকার হতে হয়নি।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ আইনটি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে করা হলেও এর ফলে ব্যক্তিমালিকানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকেই তাদের দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি বা ফসলি জমি হারান, যা স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত কষ্টের। তবে সান্ত্বনার বিষয় হলো, এই জমি রাষ্ট্রের বৃহত্তর উন্নয়নের কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বর্তমানে ক্ষতিপূরণের আর্থিক হার আগের চেয়ে অনেক বাড়ানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ বা এলএ শাখা নিয়ে সাধারণত বিভিন্ন জায়গায় দুর্নাম বা অভিযোগ থাকে। নেত্রকোনায় নতুন যোগ দেওয়ার পর এই দুর্নাম ঘোচাতে তিনি তার রাজস্ব টিমকে নিয়ে কাজ করছেন। কোনো বদ্ধ রুমে নয়, বরং সম্পূর্ণ উন্মুক্তভাবে কনফারেন্স রুমে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নেত্রকোনায় এলএ শাখার স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা যেন ভবিষ্যতেও বজায় থাকে, সেজন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
এসময় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক প্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত চেক গ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন।
