নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সরকারের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং ৩১ দফা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঐতিহাসিক তিলকখালি খাল খননকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খাল খননকাজের উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) “পুকুর ও খাল উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)” প্রকল্পের আওতায় এই খাল খনন করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ডা. আনোয়ারুল হক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের বিষয়। ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তিলকখালি খাল খননের জন্য নেত্রকোনায় এসেছিলেন। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই খালের খননকাজ উদ্বোধন করতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।” প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এনে এর পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধনের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি নিয়েছেন। বর্তমান সরকারের বয়স এক মাসও পূর্ণ হয়নি, তার মধ্যেই আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছি।”
উন্নয়নকাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “সারা দেশের সব সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্নীতি বন্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। কাজের মানের ক্ষেত্রে শতভাগ সরকারি নির্দেশনা মানতে হবে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা যেমন নজর রাখব, তেমনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও দুর্নীতির আশ্রয় না নিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডি বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ তিলকখালি খাল খনন করা হবে। এ কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা। খননকাজের বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর.এস.জেড. কনস্ট্রাকশন।
নেত্রকোনা সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. মজিবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এলজিইডি নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান নূরু এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জিপি অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক।
এসময় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই খালটির খননকাজ সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, কৃষি সেচ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
