নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের লক্ষে হামলার অভিযোগ উঠেছে মৃত স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মা ও মেয়েসহ কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ তুলে ধরেন। এরআগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা বর্তমানে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, সাজেদা পারভীন (৪৩), তার মেয়ে জান্নাতুল নাহার কুসুম (১৪), সাজেদা পারভীনের বোন রুমেছা খাতুন (৫২) এবং রহিমা খাতুন (৫৪)।
ভুক্তভোগী সাজেদা পারভীন জানান, নিজের দুটি সন্তান জন্মের পর মারা যাওয়ায় তিনি একটি শিশুকে দত্তক নিয়ে লালন-পালন করছেন। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তার স্বামী আবুল কাসেম মারা যান। এরপর থেকেই তিনি স্বামীর পরিবারের সদস্যদের অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বসতবাড়িতে বসবাস করে একটি দোকান পরিচালনার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর পরিবারের সদস্যরা তাকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২২ মার্চ তার জীবিকার একমাত্র উৎস দোকানটি দখল করে নেয় তারা। পরে থানায় অভিযোগ করলে দোকানটি ফেরত পান তিনি।
এর জের ধরে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে দেবর আবুল হোসেন (৩৭), বাবুল মিয়া (৩৪) ও তার স্ত্রী উম্মে হানি (২৫), মামা শশুর আব্দুল করিম (৬০) ও তার স্ত্রী জুলেখা খাতুন (৫০) সহ কয়েকজন তার বসতবাড়িতে প্রবেশ করে গাছ কাটতে শুরু করেন। এ সময় সাজেদা পারভীন বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে দেশীয় দাঁড়ালো অস্ত্রের আঘাতে তার মেয়েসহ আরও তিনজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
সাজেদা পারভীন আরও অভিযোগ করেন, তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও অভিযুক্তরা তার বসতঘর দখল নিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
