ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারিভাবে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন করেন। ১০৭টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৯১ ভোট।
এতে ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ৪৪ হাজার ৬২৩ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। এ আসনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৯৮টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৫৮ হাজার ৮৫১টি। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী, পুরুষ ও তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ সারি কেন্দ্রগুলোর সামনে দেখা যায়।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ও প্রশাসনের তৎপরতায় সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোট শেষে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ফলাফল সুশৃঙ্খলভাবে উপজেলা পরিষদ হলরুমে জমা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেনের কাছে। বিজয়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ভালুকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আসসালামু আলাইকুম।
প্রিয় ভালুকাবাসী আপনাদের সন্তান হিসেবে আমার প্রতি যেই আস্থা এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছেন তার জন্য আমি এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ইনশাআল্লাহ আগামীদিনে আপনাদের ভোট আমানত হিসেবে নিয়ে আমার প্রতি অর্পীত দায়িত্ব ঈমানের সাথে পালন করব।” তিনি আরও বলেন, “পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দায়িত্বরত সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশবাহিনী, আনসার সহ সকল বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের নিরপেক্ষতা, সহযোগিতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ভালুকায় সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি ভালুকার সকল রাজনৈতিক দল ও সকল পেশাজীবি সংগঠন, আলেম ওলামা মাশায়েক ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপমর জনসাধারণদের প্রতিও জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ ।
সেই সাথে ভালুকার জাতীয়তাবাদী দলের ধানের শীষের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দদের জানাই হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসা এবং ধন্যবাদ।” নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে নবনির্বাচিত এই প্রার্থী বলেন, “নির্বাচনকালী সময়ে যেমন সকল ষড়যন্ত্র, উস্কানিকে পাশ কাটিয়ে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছেন তেমনিভাবে বর্তমান এবং আগামীদিনেও সকলকে ধৈর্যধারণ করার আহবান জানাচ্ছি। কোন প্রকার আনন্দ মিছিল, জনদূর্ভোগের কারণ হয় এমন কর্মকান্ড থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।” তিনি জানান, আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ধানের শীষের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপজেলা, পৌরসভা ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ছিল প্রত্যাশা ও আগ্রহের প্রতিফলন। ভালুকা পৌরসভার স্থানীয় ভোটার মো. আব্দুল হালিম বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে ভালো লেগেছে। এখন আমরা চাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কথার বাস্তব প্রমাণ দেবেন।” হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নারী ভোটার সেলিনা আক্তার জানান, “নিরাপত্তা ভালো ছিল, নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছি।” কাচিনা ইউনিয়নের তরুণ ভোটার রাকিব হাসান বলেন, “ভালুকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
ভালুকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ফলাফল নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। শিল্পসমৃদ্ধ এ উপজেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসবে। বেসরকারি ফলাফলের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা থাকলেও জনমনে ইতোমধ্যে প্রত্যাশার চাপ স্পষ্ট। জনগণের দেওয়া এই ম্যান্ডেট বাস্তব উন্নয়ন ও সুশাসনে কতটা দ্রুত রূপ পায় এখন সেদিকেই তাকিয়ে ভালুকাবাসী।
