শেখ শামীম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে নির্বাচনী ফলাফলে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফলাফল গ্রহণের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার প্রতিক্রিয়ায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট না হলে আজ আপনাদের সামনে আমরা দাঁড়াতে পারতাম না।”
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার বক্তব্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভিশন এবং ৩১ দফার আলোকে একটি নতুন ও পরিবর্তিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “পাহাড়-সমতল এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলমান, চাকমা, গারো, হাজং সবাই মিলে একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ গড়া হবে। নতুন বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকার বজায় থাকবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সবার আগে বাংলাদেশ”- এ স্লোগানকে সামনে রেখেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামসহ এ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী প্রার্থীবৃন্দ। ‘ধানের শীষে’র বিজয়ী প্রার্থী নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক ও নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসেন রফিকুল ইসলাম হিলালী। নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর ‘দাঁড়পাল্লা’ প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী মাছুম মোস্তফা।
অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তোফায়েল হোসেন, জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভোট পেয়েছেন ১,৫৮,৩৪৩টি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম রব্বানী ৮৭,৪৮৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে প্রতিদ্বন্ধীতায় অংশগ্রহণকারী জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মো. আনোয়ার হোসেন খান ১০২৩ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির (কাস্তে) মো. আলকাছ উদ্দিন মীর ৪৪২৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাত পাখা) মো. আ. মান্নান (সোহাগ) ২২২০ ভোট এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি (তারা) মো. বেলাল হোসেন ৩৩৫ ভোট পেয়েছেন।
নেত্রকোনা-১ আসেন একটি পোষ্টাল ভোট কেন্দ্রসহ মোট ১২৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪,৫৬, ১৮২। বাতিলকৃত ৬৭৫৩টি ভোটসহ প্রদত্ত ভোট ২,৬০৫৯১টি। অর্থাৎ ৫৭.১২ শতাংশ ভোট পড়েছে এ আসনে।
