জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নির্বাচনে এককভাবেই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসীও তিনি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি বর্তমানে পুনরুত্থান ঘটিয়েছে এবং যুব নেতৃত্বাধীন একটি নতুন জোটের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যারা গত বছরের সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে দেশ শাসন করেছিল। এবারের নির্বাচনের আগে জামায়াত আবারও একটি ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়, যার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা—বিশেষ করে ২০২৪ সালের দীর্ঘ অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত তৈরি পোশাক শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে? আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে, তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, আমি চাই তারা একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখুক।
তবে তারেক রহমানের সহযোগীরা জানিয়েছেন, বিএনপি ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, বাকি আসনগুলোতে রয়েছে তাদের মিত্ররা। তারেক রহমান আসনের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে না বললেও বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন আমরা পাব।’
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে দেশটি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলছে। ওই সময় শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। ঢাকার একটি আদালত গত বছর দমন-পীড়নের ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।
ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন আন্তর্জাতিক অংশীদার, যারা দেশের প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে। আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। ব্যবসা আনতে হবে, যাতে মানুষ ভালোভাবে বাঁচতে পারে। বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমাদের মানুষের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে; কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।’
শেখ হাসিনার সন্তানদের দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে, যদি মানুষ স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার আছে।’
রোহিঙ্গা ইস্যুতেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তারেক রহমান। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবেশী বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে একাধিক দমন-পীড়নের মুখে তারা পালিয়ে আসে। তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই তারা নিজ দেশে ফিরে যাক, তবে সেটি তখনই সম্ভব যখন তাদের জন্য পরিস্থিতি নিরাপদ হবে। যতদিন না নিরাপদ হচ্ছে, তত দিন তারা এখানে থাকতে পারবে।’ উল্লেখ্য, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে গত ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন। লন্ডনে প্রায় দুই দশক নির্বাসনে ছিলেন তিনি। তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
