রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
মাঘের শুরুতেই নীলফামারীর ডিমলার গ্রামবাংলা যেন হলুদ রঙের এক জীবন্ত ক্যানভাস। বিস্তীর্ণ সরিষাখেত বিকেলের নরম আলোয় এমন মোহনীয় হয়ে উঠছে যে, সড়ক দিয়ে চলাচল করা মানুষ ও যানবাহন অনিচ্ছায় থেমে যাচ্ছে। চোখজুড়ানো এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় ও দূরদূরান্তের দর্শনার্থীরা।
উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়া (বাঘেরপুল) এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষকদের মতে, খরচ ও শ্রম কম হওয়ায় সরিষা এখন বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভরসা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনের সম্ভাবনাও ভালো। তবে টানা শৈত্যপ্রবাহে কিছু ফুল ঝরে পড়েছে, তার ওপর দর্শনার্থীদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে ফসল ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
এলাকাটির পাশ দিয়ে তিস্তা নদীর প্রধান খাল ও কাঁকড়া বাজার সড়ক চলে যাওয়ায় সরিষাখেতের সৌন্দর্য সহজেই নজর কাড়ছে। অনেক দর্শনার্থী ছবি তুলতে খেতের ভেতরে ঢুকে পড়ায় গাছ ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ডিমলায় ১ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দর্শনার্থীদের খেতে না নেমে সড়কের পাশ থেকেই সৌন্দর্য উপভোগ করার আহ্বান জানান।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর কৃষকের জীবিকার এই সহাবস্থানে দায়িত্বশীল আচরণই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
