কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে মুহূর্তেই পাল্টে গেছে মৌলভীবাজার-৪(শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী চিত্র। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতীক হাতে পাওয়ায় পর থেকেই প্রচারণার উৎসবে মেতেছেন প্রার্থীরা।
“কাঙ্ক্ষিত” প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা এখন ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে,দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নির্বাচনী এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে মাইকিং। প্রার্থীদের ছবি ও প্রতীক সংবলিত সাদা-কালো লিফলেটসহ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রার্থীরা গণসংযোগে সাতসকালেই নেমে পড়ছেন,গণসংযোগ করছেন গভীর রাত পর্যন্ত। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সবখানেই এখন আলোচনার মূল বিষয় ‘কার প্রতীক কী’ এবং ‘কেমন চলছে প্রচারণা’আর কেইবা এমপি হবেন এ আসনে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরামহীন ছুটছেন প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীও । এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো.মুজিবুর রহমান চৌধুরী( হাজ্বী মুজিব) বলেন, “প্রতীক পাওয়ার পর থেকে আমাদের কাজের গতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।প্রতিক পাওয়ার পর সময় খুব কম,জনসভা, উঠান বৈঠক করে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে আমাদের উন্নয়নের অঙ্গীকার পৌঁছে দিচ্ছি।” মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুরু হয়েছে জোরদার প্রচারণা।
ফেসবুক, ইউটিউবেও প্রার্থীরা ছোট ছোট ভিডিও ও গ্রাফিক্স কার্ডের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের প্রতীক ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই মূলত এই ডিজিটাল কৌশল বেছে নিয়েছেন তারা। তবে চা জনগোষ্ঠী ও তরুণ ভোটাররাই এ আসনে জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন বলে সাধারন মানুষ মনে করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো.আসাদুজ্জামান জানান,কমিশনের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে মাইকিং না করা এবং দেয়াল লিখন থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে প্রার্থীদের।তিনি জানান, যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উল্লেখ্য এ আসনে বিএনপির মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী (রিকশা), জাতীয় নাগরিক পার্টি ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবিদার প্রীতম দাশ (শাপলা কলি), বিএনপির বিদ্রোহী(বহিস্কৃত)স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (লাঙল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. আবুল হাসান (মই) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন।এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৮৩ হাজার আঠান্ন জন। এদিকে ভোটারদের মধ্যে ভোট নিয়ে বাড়তি আমেজ বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটাররা এখন মুখিয়ে আছেন যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিতে, যারা আগামী দিনে তাদের এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
