সিলেট প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিলেটে কারিগরি ও উচ্চতর টেক্সটাইল শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। ‘সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ ও ‘সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন’ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশোধনীসহ মোট ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী জুন অথবা ডিসেম্বরের মধ্যে যেসব প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া প্রতিটি প্রকল্প তিন মাস অন্তর মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। জানা গেছে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নে একই এলাকায় টেক্সটাইল শিক্ষা কমপ্লেক্সটি নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষা দেওয়া হবে।
প্রকল্পগুলোর ভৌত অবকাঠামো নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। একনেকের অনুমোদনের ফলে চলতি বছরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এর অধিভুক্ত হয়ে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করবে।
অন্যদিকে, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট থেকে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই দুটি প্রতিষ্ঠান চালু হলে সিলেট অঞ্চলে দক্ষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি জনবল তৈরি হবে, যা দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এছাড়া একনেক সভায় নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ, ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প এবং পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে বিভিন্ন সুরক্ষা প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প এড়িয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ ও বিনিয়োগমুখী প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এই দুটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত অনুমোদনের খবরে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
