গোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ-
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ( গোবিপ্রবি) এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: হুর-ই-জান্নাত জ্যোতির মাধ্যমে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার খাতা হলে এনে এবং ঐ শিক্ষিকার বাসায় ও অফিসে বসে লিখে সিজিপিএ ১.২ থেকে ৩ তে উন্নত করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক নাহিদের বিরুদ্ধে।
গতকাল (৬ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে এই সম্পর্কিত স্কিনসর্ট ও অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। সেখানে একটি স্থানে ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক নাহিদ তার পুরাতন প্রমিককে বলতে দেখা গেছে যে সে সেমিস্টার পরীক্ষার খাতা হলে নিয়ে এসে লিখতেছে। অন্য ছবিতে তাকে অভিযুক্ত শিক্ষিকার অফিসে ও বাসায় বসে পরীক্ষার খাতায় লেখার বিষয়ে নাহিদকে বলতে দেখা গেছে।
এছাড়াও একটি অডিও ক্লিপে ঐ বিভাগের শিক্ষিকা ডা: হুর-ই-জান্নাত জ্যোতির বাসায় তার সামনে নাহিদ তার সাবেক প্রেমিকাকে বলতে শোনা যায়, ” তুমি যে বলছো খাতা হলে, ম্যামের বাসায় অফিসে বসে লিখেছি তা সব সত্য। এখন এগুলো বাইরে বললে তো সমস্যা ম্যাম। ” অন্য দিকে তার সাবেক প্রেমিকাকে আরও বলতে শোনা যায়, বিভাগের ঐ শিক্ষিকা নাহিদের ওয়াটসপে এএসভিএম বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের রেজাল্ট সীট পাঠাতো। যা ব্যবহার করে বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর রেজাল্ট পরিবর্তন করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো।
তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা দাবি করে ছাত্রদল নেতা নাহিদ বলেন,” যে ভিডিও দেখানো হয়েছে সেখানে পুরো কথা গুলো নেই। এখানে একজনের দোষারোপ করার বক্তব্য শোনা গেছে। যেখানে সামিয়া সুলতানা আমাকে দোষারোপ করেছে। ”
সামিয়ার সব কথা সত্য এমনটা ভিডিওতে আপনাকে বলতে শোনা গেছে বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,” এখানে পুরো ভিডিও নেই। এখানে কাট করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমি কোন কথার পর সব ঠিক আছে বলেছি তা স্পষ্ট নেই। সামিয়া টাকা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত, সেটা ঢাকতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ছড়াচ্ছে। ”
সামিয়ার সাথে রিলেশন থাকাকালীন আপনি তার সাথে চ্যাটে বিভিন্ন সময় বলেছেন আপনি হলে, ম্যামের অফিস ও বাসায় খাতা নিয়ে লিখে সিজিপিএ ১.২ থেকে ৩ করেছেন। এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ” এখানে স্কিনসর্ট দেখানো হয়েছে। তার সাথে যদি বলেই থাকি তাহলে তাকে চ্যাটিং এর ভিডিও রেকর্ড দিতে বলেন। সেটা যাচাই করা হবে।”
এই বিষয়ে এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: হুর-ই-জান্নাত জ্যোতি বলেন,” আসলে একজন শিক্ষার্থী সিজিপিএ ১.২ থেকে পড়াশোনা করে ৩ রেজাল্ট করতে পারবে না এমনটা কোথাও লেখা নেই। ভার্সিটিতে এসে সবাই প্রথম বর্ষের দিকে খারাপ রেজাল্ট করে। পরবর্তীতে অনেকেই পড়াশোনা করে ভালো রেজাল্ট করে। এটা সাধারণ বিষয়। এখানে আমি যে রেজাল্ট ১.২ থেকে ৩ করে দিয়েছি তা মোটেও সত্য নয়।”
হলে পরীক্ষার খাতা নিয়ে যাওয়ার জন্য দেওয়া এবং আপনার অফিস ও বাসায় বসে লেখার অভিযোগের বিষয়ে বলেন,” আমি একজনকে খাতা দিয়ে দিয়েছি সে হলে নিয়ে লিখেছে এটা আদেও কি সম্ভব? একজন শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীর সাথে সম্পর্ক ভালো থাকতেই পারে তাই বলে তাকে খাতা দিয়ে দেওয়া হবে এটা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। নাহিদ আমার বাচ্চাদের পড়াতো এবং বিভাগে স্টাফ কম হওয়ায় বিভিন্ন কাজে আমাকে সহযোগিতা করেছে। বিভাগে আমি একা শিক্ষক স্টাপ কম বিভাগের ল্যাব ও হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে নিয়ে কিনেছি। নাহিদ অন্য শিক্ষার্থীর মতো আমাকে সহযোগিতা করেছে। তাই বলে আমি তাকে পরীক্ষার খাতা দিয়ে দিয়েছি লিখতে তা মোটেও সত্য নয়। আর আমার বিভাগে অন্য কোনো শিক্ষক না থাকায় সব কাজ আমাকে একা করতে হয়। তাই বিভাগের সভাপতি থাকতে আমাকে বিভাগের অন্য কাজের পাশাপাশি ব্যাকলক সহ রিটেক পরীক্ষা গুলো অনেক সময় সভাপতির অফিসে নেওয়া হয়। শুধু যে নাহিদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তাই নয় অন্যদেরও নেওয়া হয়েছে। যাতে তাদের পরীক্ষার পাশাপাশি বিভাগের কাজ করতে পারি।”
নাহিদ সামিয়ার সাথে ওয়াটসপ ও আপনার সামনে তিনজন কথা-কাটাকাটির সময় পরীক্ষার খাতা নিয়ে লেখার বিষয় স্বীকারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,” নাহিদ ও সামিয়ার মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তারা দুইজন কথা বলার সময় কি বলেছে এটাতো আমি জানি না। এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। নাহিদ সামিয়া ও বর্ণীর মধ্যে ঝামেলা হওয়ায় একজন আরেকজনের পরিবারে কল করে বিভিন্ন কথা বলেছে। যার ফলে ওদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। আমি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে ওদের ডাকি বিষয়গুলো সমাধান করার জন্য।
কিন্তু যে অডিওটা ছড়ানো হয়েছে সেটা দুই মিনিটের অথচ আমরা প্রায় ৪০ মিনিট বেশী কথা বলেছি। যে রেকর্ড করেছে সে পুরো কথা গুলো দিলে বিষয়টা পরিষ্কার হতো। এখন একটা অংশ কেটে একজন যা বলেছে তা সত্য বলে মানা স্পষ্ট হয় না। নাহিদ কোন কথার পর বলেছে পুরো অডিও শুনলে বোঝা যেত।”
তিনি আরও বলেন,” আর একটা বিষয়ে যাচাই বাছাই না করে এভাবে প্রচার করা মোটেই কাম্য নয়। “