আরিফুল ইসলাম রনক,নওগাঁ:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের কৃষক বাচ্চু মন্ডল এর ছেলে রাব্বি হোসেন ১২০টাকায় বাংলাদেশ পুলিশ কনেস্টবল পদে চাকরির আবেদন করেন ২০২৪ সালে। প্রথম তিনটি ইভেন্ট নিজ যোগ্যতাই পার হওয়ার পরেই স্থানীয় দালাল সুমন হোসেন জালে ফেঁসে যায় সহজ-সরল কৃষক পরিবারের সদস্যরা। পুলিশে চাকরি না হলেও ২২লাখ ৫০হাজার টাকা পর্যায় ক্রমে সুমন দিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে রাব্বির পরিবার।
এঘটনায় তেতুলিয়া গ্রামে তুলকালাম হয়েছে রাব্বির পরিবারকে ঘিরে। ছেলেকে পুলিশের চাকরি দিতে গিয়ে সর্বশান্ত রাব্বির বাবা এবং মা। টাকা উদ্ধারের জন্য বদলগাছী থানাতে অভিযোগ করেন রাব্বির মা ববিতা বেগম। থানায় অভিযোগের পরে দালাল সুমন এলাকা ছেড়ে আত্নগোপনে রয়েছেন। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ লাইন্স গিয়ে প্রাথমিক ভাবে যাচাই বাছাইয়ে টিকে গেলেও লিখিত পরীক্ষার আগমুহুর্তে প্রতিবেশী একভাবির মাধ্যেমে দালাল সুমনের সাথে পরিচয় হয়। এরপরে বিভিন্ন ভাবে ব্রেনওয়াশ করে চাকরি পাইয়ে দেয়ার নামে প্রথমে ১০লাখ টাকার চুক্তি করে। নগদ তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন দালাল সুমন।
তবে লিখিত পরীক্ষার আগের দিন চুক্তির বাকী ৭লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেয়ার নামে রাব্বির মায়ের কাছে আরও সাড়ে ৯ লাখ টাকা দাবী করেন এবং টাকা দিতে রাজী না হলে চাকরি তো হবেই না সেই সাথে সব টাকা মার যাবে বলে ভয় দেখায়। পরে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীর কাছে থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা জোগার করে নগদ টাকা প্রদান করেন দালাল সুমনের কাছে।
কিন্তু চাকরি দিতে না পারাই টাকা ফেরত চাইলে সুমন বলেন, ১০লাখ টাকা ফেরত নিতে আরও ১লাখ ৫০হাজার টাকা দিতে হবে। বাধ্য হয়ে সেই টাকাও জোগার করে দিয়েছে দালাল সুমনকে । তবে এতেই খান্ত হননি ঐ দালাল সুমন। পরে তিনি আরও বলেন ২০লাখ টাকা ফেরত নিতে হলে আরও ১লাখ ৫০হাজার দাবী করেন এবং বাধ্যহয়ে আরও ১লাখ টাকা দিতে হয়েছে সুমন দালালের নিকট। তার পরেও টাকা ফেরত দেয়নি ঐ দালাল সুমন। টাকা ফেরত না পেয়ে দিশে হারা ঐ ভুক্তভোগী রাব্বি হোসেন এর পরিবার। দালাল সুমন ৫আগষ্টের আগে ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীর চাকরি দেওয়ার নামে এক ব্যক্তির কাছে থেকে ৮লাখ টাকা নিয়েছে বলেও জানা যায়। সেই ব্যক্তির কাছে থেকে টাকা নেওয়ার সময় একটি ব্যাংক চেক প্রদান করেন তিনি।
এবিষয়ে জহুরুল ইসলাম নামে সিএনজি ড্রইভার বলেন, পুলিশের চাকরি দিতে পারবো বলে সুমন আমার সমনে টাকা নিয়েছে সত্য। তবে চাকরি দিতে না পারায় টাকা ফেরত দেয়ার কথা রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। টাকা লেনদেন সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন, সাইদুল ইসলাম, আতোয়ার রহমানসহ সকলের উপস্থিতিতে পুলিশে চাকরি দেয়ার কথা বলে চুক্তি বদ্ধ হয়ে এসব টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও জানান তারা।
কিন্তু দালাল সুমন এখন আর আমাদের কারো ফোন রিসিভ করেনা। টাকা গুলো কখনো বদলগাছী কপিহাউজ বসে আবার, ভান্ডপুর বাজার এসে কখনো আবার ববিতার বাড়ী থেকে নিয়ে গেছে আমারা তাঁর জলজান্ত প্রমাণ বলেও জানান তারা। এবিষয়ে ববিতা বেগম ও রাব্বি হোসেন বলেন, আমরা পুলিশের চাকরির কথা চিন্তা করে এবং বিশ্বাস করে চাকরি পাওয়ার কথা ভেবে টাকা গুলো দিয়েছি।
২২লাখ ৫০হাজার টাকা ফেরত না পেলে স্বপরিবারে আত্মহত্য করা ছাড়া আর কোন উপাই নেই আমাদের। প্রশাসনের কাছে অকুল আবেদন এই ছাত্রলীগ পরিচয় দানকারী দালাল সুমনের বিচার চাই। সেই সাথে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আমাদের পরিবারকে আত্মহত্যার হাত থেকে রক্ষা করেন।
বিষয়টি নিয়ে মোবাইল ফোনে কথা হলে অভিযুক্ত সুমন হোসেন বলেন, আমি নিজেও তাদের নামে থানায় অভিয়োগ করার কথা ভাবছিলাম কিন্তু অভিযোগ করিনি। পুলিশে চাকরি দেয়ার তেমন কোন বিষয় নেই। আমি তাদের চিনিনা। কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, দেড় লাখ টাকা নিয়েছি। সেটার চেক পরে দিয়েছি। আমার কাছে তাদের একটি চুক্তি নামা রয়েছে। মাত্র সেটা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো বলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেয়। বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি মো. শাহজাহান আলী বলেন, পুলিশে চাকুরি দেওয়ার নামে প্রতারণার বিষয়ে একটি অভিযোগে সুমন এর নামে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগি মহিলা। অভিয়োগের উপর ভিত্তি করে কাজ করছি আমরা।