ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ (বাসস): বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আজ জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে ব্যাংকিং খাতের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি স্বস্তিদায়ক স্তরে থাকায় অর্থপ্রদানের ভারসাম্য বা ব্যাংকিং খাত থেকে কোনো তাৎক্ষণিক সংকট আসবে-এমনটা আমরা ভাবছিনা। আমাদের আমানত বাড়াতে পারলে আমরা ভালো অবস্থানে থাকব। আমরা একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত তৈরির জন্য কাজ করছি।’
রাজধানীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট আমানত ৩৪৫ দশমিক ১৭ বিলিয়ন বেড়ে ডিসেম্বরের শেষে ১৭.৭৭ ট্রিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ড. মনসুর বলেন, গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে, যা আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ গণনা মান অনুযায়ী ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে শ্রেণিভুক্ত বা নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) রেকর্ড ৩৪৫ দশমিক ৭৬৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২০.২০ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এনপিএল ছিল ২৮৪ দশমিক ৯৭৭ কোটি টাকা, যা সেই সময়ে মোট বকেয়া ঋণের ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ ছিল।
গভর্নর বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে মোট ঋণের ৪২.৮৩ শতাংশ অ-পারফর্মিং হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে মোট ঋণের ১৫.৬০ শতাংশ ছিল এনপিএল।
বিবি প্রধান বলেন, মন্দ ঋণের প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার অভাব এবং ঋণের শ্রেণিবিন্যাস নীতির পরিবর্তনের কারণে এনপিএল বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, আগে ঋণ ২৭০ দিন পর ওভারডিউ হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু সময়সীমা এখন ১৮০ দিনে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপরন্তু, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ঋণগুলো মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে অ-পারফর্মিং হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গভর্নর সতর্ক করে বলেন এই নতুন নীতির কারণে আগামী মাসগুলোতে এনপিএল আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমরা প্রকৃত তথ্য দিচ্ছি। আমরাও আইন পরিবর্তন করছি। এ জন্য এনপিএল বাড়ছে। এর আগে সরকার এনপিএল ৯ শতাংশ দেখিয়েছিল। এটা প্রকৃত তথ্য ছিল না।’
তবে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন অ্যাক্ট’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে যাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ, অবসান, পুনঃপুঁজিকরণ এবং সংকটে জর্জরিত ব্যাংকগুলোর একত্রীকরণের মতো সংশোধনমূলক ব্যবস্থা আইনগতভাবে প্রয়োগ করার অনুমতি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন,‘এই আইনের অধীনে, যেকোনো ব্যাংকের একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ, অবসান বা পুনঃপুঁজিকরণের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে’।