সোমবার, নভেম্বর ২

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জনবল সংকট নিরসন, আইন প্রয়োগে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, বিশেষায়িত তদন্ত ইউনিট গঠন এবং দেশজুড়ে মাদক সংক্রান্ত মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি আধুনিকায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

ডিএনসি’র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই রূপরেখায় জনবল নিয়োগ বৃদ্ধি, লজিস্টিক সহায়তা উন্নয়ন, অত্যাধুনিক শনাক্তকরণ সরঞ্জাম সংগ্রহ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে অধিদপ্তরের কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে ডিএনসিতে অনুমোদিত ২ হাজার ৯৪৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২ হাজার ২৭২ জন। ফলে ৬৭১টি পদ শূন্য রয়েছে। জনবলের এই ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

জনবল সংকটের পাশাপাশি লজিস্টিক সীমাবদ্ধতাও অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে। দেশের ১৩টি জেলায় অধিদপ্তরের নিজস্ব যানবাহন নেই। এ ছাড়া এক্স-রে স্ক্যানার, হাতে বহনযোগ্য মাদক শনাক্তকরণ যন্ত্র এবং শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরাসহ আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিদপ্তরে নিজস্ব ডগ স্কোয়াড, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও নেই। পাশাপাশি আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ও ওয়্যারলেস রেডিও ডিভাইসের ঘাটতি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

ডিএনসির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ গোলাম আজম আজ বাসসকে বলেন, “প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ডিএনসিকে আরও উন্নত সরঞ্জামসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাগতভাবে দক্ষ একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় রূপান্তর করা, যাতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মাদকসংক্রান্ত হুমকি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।”

প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিজস্ব অফিস ভবন নির্মাণের মাধ্যমে অধিদপ্তরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে প্রসিকিউশন অফিস স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কর্মপরিকল্পনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ওয়্যারলেস যোগাযোগ সরঞ্জাম, বহনযোগ্য মাদক শনাক্তকরণ যন্ত্র, উন্নত এক্স-রে স্ক্যানার ও আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মাদক শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদারে একটি বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড গঠনের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর মাদক পাচার এবং অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক নেটওয়ার্কের তদন্তে সাইবার নিরাপত্তা ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মপরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা। অপরাধ তদন্তে ইলেকট্রনিক প্রমাণের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গোলাম আজম বলেন, “প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক সক্ষমতা জোরদার করার মাধ্যমে প্রমাণনির্ভর তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা মাদক পাচারকারী চক্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।”

মানবসম্পদ উন্নয়নও এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা, বিশেষজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ এবং আধুনিক অভিযান পরিচালনার জন্য আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট হটলাইন বা কল সেন্টার চালু এবং মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বিমানবন্দরসহ কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যৌথ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে বিশেষ করে মাদক চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে তথ্য আদান-প্রদান ও অভিযান পরিচালনায় আন্ত:সংস্থা সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলার বিচার দ্রুত করা এবং প্রসিকিউশনের কার্যকারিতা উন্নত করতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাবও দিয়েছে ডিএনসি।

এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো, প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী অধিদপ্তরের প্রসিকিউটরদের পাবলিক প্রসিকিউটরদের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান।

এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মামলার উপস্থাপন আরও কার্যকর হবে, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরদের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা কমবে বলে আশা করছে অধিদপ্তর।

ডিএনসির অতিরিক্ত মহাপরিচালক গোলাম আজম বলেন, “কার্যকর আইন প্রয়োগ শুধু গ্রেপ্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর জন্য শক্তিশালী প্রমাণ, দক্ষ প্রসিকিউশন এবং সময়মতো বিচারিক কার্যক্রম নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।”

বাংলাদেশের মাদকবিরোধী আইন প্রয়োগব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত এসব পদক্ষেপ একটি সমন্বিত পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচিত হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে সময়মতো অর্থায়ন, জনবল নিয়োগ, সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

৬৭১টি শূন্য পদ পূরণ, ১৩টি জেলায় যানবাহন সংকট নিরসন এবং পরিকল্পিত বিশেষায়িত ইউনিটগুলো প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টিকে এ কৌশল বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডিএনসি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, “প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ তদন্ত, মাদক পাচারকারী চক্রের কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং দেশজুড়ে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ক্ষেত্রে ডিএনসির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version