রবিবার, অক্টোবর ২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মদন উপজেলার সাধারণ খাল ‘কলাগাছিয়া’। স্থানীয় মাঘান ও রানীহালা গ্রামের মানুষের কাছে এটি নিছক কোনো জলাশয় নয়; এটি যেন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের অনন্য প্রতীক। যুগ যুগ ধরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই খালের ইজারার অর্থে পরিচালিত হয়ে আসছে এলাকার চারটি মসজিদ ও একটি মন্দির। সম্প্রতি এই খালের ওপর একটি মহলের নজর পড়ায় দীর্ঘদিনের সেই শান্তিপূর্ণ রেওয়াজ হুমকির মুখে পড়েছে। খাল জবরদখলের এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধেই এবার একাট্টা হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ মানুষ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের মাঘান গ্রামের তাহের পাগলার মাজার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাখানেক স্থায়ী এ কর্মসূচিতে শত শত গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। গ্রামের নানা বয়সের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে যুবসমাজ খোলা মাঠে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন মাঘান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম রতন, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল হক মঞ্জু, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আল আমিন তালুকদার এবং ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া ও বাচ্চু মিয়া।

বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলাগাছিয়া খালটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের (চারটি মসজিদ ও একটি মন্দির) উন্নয়নের স্বার্থে সম্মিলিত উদ্যোগে ইজারা দেওয়া হয়। ইজারা থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ করা হয়, যা এলাকার অনন্য ঐতিহ্য।

বক্তাদের অভিযোগ, এবার স্থানীয় মাহবুব মেম্বার, পলাশ মিয়া, সোহেল মিয়া, রফিক মিয়া এবং ঝুমন মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি পূর্বের নিয়ম ভেঙে খালটি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ এলাকায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে খালটি দখলমুক্ত করে পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নে ইজারা প্রক্রিয়া বহাল রাখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন বক্তারা।

যাদের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ, তাদের অন্যতম পলাশ মিয়া এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। তার দাবি, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সাংবাদিকদের কাছে পলাশ মিয়া বলেন, “আমরা কোনোভাবেই গ্রামবাসীর বিপক্ষে নই। খালের ইজারার টাকা প্রতিটি মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়নে ব্যবহার হোক, এটা আমরাও মনেপ্রাণে চাই। তবে আমাদের কথা হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান যেন এই অর্থ থেকে বাদ না পড়ে। আমরা চাই সবগুলাই যেন সঠিকভাবে তাদের প্রাপ্যতা বুঝে পায়। আমাদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

এলাকায় বিরাজমান চাপা উত্তেজনা প্রসঙ্গে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

ওসি বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হচ্ছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version