শনিবার, অক্টোবর ২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক | The Mail BD

বাংলাদেশের সরকারি ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ PHP প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বৈশ্বিক সতর্কতার পর বাংলাদেশ ব্যাংক, ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ভূমিসেবাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এসব ওয়েবসাইটের সবগুলো সরাসরি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

কেন বারবার ওয়েবসাইট বন্ধ হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের জায়গা হলো, একটি ওয়েবসাইট সচল রাখার পাশাপাশি সেটিকে নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ করা হচ্ছে কি না। ওয়েবসাইট তৈরিতে ব্যবহৃত সফটওয়্যার, প্লাগইন, সার্ভার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিতে দুর্বলতা থাকলে সেগুলো কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য চুরি কিংবা অনলাইন সেবা ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে।

সাম্প্রতিক ঘটনায় PHP-এর দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই ত্রুটিগুলো কাজে লাগাতে পারলে ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভারে দূর থেকে অননুমোদিত কোড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ব্যবহৃত সফটওয়্যার যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোন কোন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে?

২৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তাঝুঁকি যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ পাওয়া যায়। একই সময়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বিজি প্রেস, ব্যানবেইস ও পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটও বন্ধ পাওয়া গেছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২২ অক্টোবর থেকে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে। অন্যদিকে, ভূমিসেবার ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৩৬ ঘণ্টা বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিল ভূমি মন্ত্রণালয়।

এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর নিরাপত্তা যাচাই করা।

তাহলে কি বাংলাদেশ সাইবার হামলার শিকার?

ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেই সেটিকে হ্যাকিংয়ের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাইবার হামলায় আক্রান্ত হতে পারে, আবার সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ নিজেরাই সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে পারে। সার্ভারের ত্রুটি, বিদ্যুৎ সমস্যা, নেটওয়ার্ক বিভ্রাট কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের কারণেও ওয়েবসাইট অচল হতে পারে।

তাই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে কোন প্রতিষ্ঠান প্রকৃতপক্ষে আক্রান্ত হয়েছে, কোথাও অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছে কি না এবং কোনো তথ্য চুরি হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে পৃথক কারিগরি তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য প্রয়োজন।

নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোথায় গুরুত্ব দেওয়া জরুরি?

বাংলাদেশের সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করতে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, দুর্বলতা শনাক্তকরণ, সার্ভারের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তথ্যের ব্যাকআপ, জরুরি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা এবং সাইবার হামলার ঘটনা শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

সরকারি ওয়েবসাইট শুধু তথ্য প্রকাশের মাধ্যম নয়; অনেক ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভূমিসেবা, আর্থিক তথ্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা পাওয়ার প্রবেশদ্বার। ফলে এসব সেবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সামনে কী করা প্রয়োজন?

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—সাইবার ঝুঁকি শনাক্ত হওয়ার পর ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া কি যথেষ্ট, নাকি তার আগেই নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা ও হালনাগাদের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন?

এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ এবং স্বচ্ছভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কোন ওয়েবসাইটে প্রকৃত নিরাপত্তা লঙ্ঘন ঘটেছে আর কোনটি সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, সেই পার্থক্যও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সরাসরি সব সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার প্রমাণ নয়। তবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট একসঙ্গে বন্ধ থাকার ঘটনা বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন তৈরি করেছে।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version