রবিবার, অক্টোবর ১৮

 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে একটি জাতির স্বকীয়তা দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় দেশের তরুণদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে মরমি সাধক লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘কালচার ফর ইউনিটি বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের ওপর নানাভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রচেষ্টা চলবে। কিন্তু আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার গ্যারান্টি হচ্ছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক গভীরতার উন্মোচন, চর্চা ও অনুশীলন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চর্চা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে দেশকে একমুখী করার চেষ্টা হয়েছে। এ সময়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে এবং স্বাধীনতার কথা বলে অন্য দেশের দাসত্ব করা হয়েছে। তবে আশার কথা, তরুণেরা এসব বিষয় বুঝতে পেরেছেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার কথা বলা হলেও কার্যত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশের সিনেমা হলে ভারতীয় সিনেমা অবাধে প্রদর্শনের উদ্যোগও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটি দৃষ্টান্ত। একটি জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য তার সার্বভৌমত্ব। সেই সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদী চেতনা ও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনার যে বিকাশ ঘটেছে, তার প্রকাশ ছিল জুলাই আন্দোলনে। নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষ যখন জেগে ওঠে, তখনই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি অমানবিক শাসনের পতন ঘটে।

বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, লালন শাহ, মুকুন্দরামসহ বাংলার লোককবিদের চিন্তায় মানবতাবাদী দর্শনের প্রকাশ ঘটেছে। তাদের দর্শন সহজ ভাষায় মানুষের মর্যাদা, আত্মপরিচয় ও মানবিকতার কথা বলেছে। পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-সংগীতেও এই ধারার প্রভাব দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, লালনের গান ও বাউল সুর বাংলা সাহিত্য-সংগীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতেও বাউল সুরের প্রভাব রয়েছে। তাই সাংস্কৃতিক চর্চা ও জাতীয় চেতনায় মানবতাবাদী দর্শনকে গুরুত্ব দিতে হবে।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version