শনিবার, অক্টোবর ১৭

গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয়েছে সাগর কলা সংগ্রহের মৌসুম। কম দাম ও সুস্বাদের কারণে জেলাজুড়ে এই কলার চাহিদা রয়েছে। গোবিন্দগঞ্জের ফাঁসিতলা হাটসহ স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতি হালি সাগর কলা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। তবে সহজলভ্য এই ফল দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করতে অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ক্ষতিকর রাসায়নিক ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে কলার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাজারগুলোতে মৌসুমের শুরুতেই সাগর কলার সরবরাহ বেড়েছে। দাম কম হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এ কলার চাহিদা বেশি। বাগান থেকে কাঁচা কলা সংগ্রহের পর ব্যবসায়ীরা সেগুলো পাকিয়ে বাজারজাত করেন। অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত কলা পাকিয়ে বিক্রি করতে কোথাও কোথাও অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি গাইবান্ধা সদর উপজেলার একটি করার আড়তে গিয়ে দেখা যায় প্রকাশ্যে কলায় মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক তরল ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ আড়তের মালিক জানান ‘আমরা বাগান থেকে কলা এনে বাজারে বিক্রি করি। কলা পাকতে সময় লাগে। দ্রুত বিক্রি করতে পারলে লোকসানের ঝুঁকি কমে। তাই মেডিসিন ( ক্যালসিয়াম কার্বাইড) দিয়ে কলা পাকাই এতে মাত্র বারো ঘন্টায় কাঁচা কলা পেকে হলুদ হয় । শহরের পুরাতন বাজারের আরেক কলা ব্যবসায়ী জানান, ‘ক্রেতারা পাকা কলা চান। কাঁচা কলা নিয়ে বসে থাকলে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। তবে নিরাপদ পদ্ধতিতে কলা পাকানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার, যাতে ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতি না হয় এবং ক্রেতারাও নিরাপদ ফল পান।

এদিকে ক্রেতাদের মধ্যেও ফলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পুরাতন বাজারে কলা কিনতে আসা মোস্তফা জানান , ‘কম দামে কলা পাওয়া যায় বলে আমরা কিনি। কিন্তু কলা কীভাবে পাকানো হচ্ছে, তা বোঝার উপায় আমাদের নেই। বাজারে নিরাপদ ফল নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে কিনতে পারবে।’ পুষ্টিবিদ ও ডায়েট এক্সপার্ট মাহফুজা আক্তার মুন্নি জানান, ” ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে ফল পাকানো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এ রাসায়নিকের সঙ্গে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো ক্ষতিকর দূষক থাকতে পারে। তবে শুধু কলার রং, গন্ধ বা বাহ্যিক চেহারা দেখে কার্বাইড ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরীক্ষা ও তদন্ত।” এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের গাইবান্ধা জেলার সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মন জানান ” ফল পাকাতে অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

সাগর কলা পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আড়ত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদেরও এ ধরনের কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে অধিদপ্তরকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।”

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version