আন্তর্জাতিক ডেস্ক | The Mail BD
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ক্ষোভ এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন সরকার পরিবর্তনের স্লোগানও শোনা যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবর্তন এনে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে নির্বাচন কমিশন।
দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের অন্যতম মুখ রুবি সিংয়ের বক্তব্যে তরুণদের ক্ষোভের চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে সরকার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁর আশঙ্কা, প্রতিবাদ দমন করা হলে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সংকুচিত হতে পারে। রুবির ভাষায়, গণতন্ত্র রক্ষায় তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।আন্দোলনটি এখন শুধু নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই,রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ১৫ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করে দমন-পীড়ন চলতে থাকলে সরকার পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হবে। তাঁর বক্তব্যে আন্দোলনের রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার বাংলাদেশের তরুণদের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার বক্তব্যের প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তাঁর দাবি, এসব তৎপরতার সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের রাজনৈতিক চেষ্টা জড়িত। তবে এটি বিজেপির অভিযোগ; এর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন সমন্বিতভাবে এগোনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আম আদমি পার্টিও সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর এই অবস্থান আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। তবে এই বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত কতটা বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে আন্দোলনের বিস্তার, বিরোধীদের ঐক্য এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।





