কেন্দুয়া প্রতিনিধি: শুক্রবারের পড়ন্ত বিকেল। চারদিকে যখন সাপ্তাহিক ছুটির আমেজ, ঠিক তখনই সমাজকে মাদকের বিষবাষ্প থেকে মুক্ত করার জোরালো পদক্ষেপে নামেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের নীরব লড়াইয়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পরিচালিত হলো মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ অভিযানে মরণনেশা ইয়াবা সেবনের দায়ে শাকিল নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গড়াডোবা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের মাঝেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়াডোবা এলাকায় উপস্থিত হন পুলিশ সদস্যরা। এ অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন হিসেবে শাকিলকে আটক করা হয়। জীবনের যে বয়সে একজন তরুণের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই শাকিলের কাছে মেলে মরণনেশা ইয়াবা ও মাদক সেবনের নানা সরঞ্জাম। হাতেনাতে ধরা পড়ার পর শাকিল প্রশাসনের কাছে আর নিজের অপরাধ গোপন করতে পারেননি। তিনি অকপটে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করে নেন। জানা যায়, বিপথগামী এই তরুণের বাড়ি উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের গারাদিয়া গ্রামে।
অপরাধ উদঘাটিত হওয়ায় এবং তরুণ নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সেখানে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং অপরাধের শাস্তি হিসেবে শাকিলকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
কেবল শাস্তি প্রদানই নয়, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতেও উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেজে এ অভিযানের বিষয়টি সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে শেয়ার করেন।
নিজের ওই পোস্টে তিনি সুস্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং সুস্থ সমাজ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।




