বুধবার, অক্টোবর ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার চল্লিশা এলাকায় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ন্যক্কারজনক হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মসজিদের এক কোষাধ্যক্ষের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। হামলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং মাদ্রাসার আসবাবপত্রের পাশাপাশি পবিত্র কোরআন শরিফের অবমাননা করা হয়েছে। বর্বরোচিত এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চল্লিশা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী, ওলামায়ে কেরাম ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষেরা।

জানা গেছে, নেত্রকোনার চল্লিশা কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজের পর নিয়মিত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করা হতো। গত ২২ বছর ধরে এই মাদ্রাসায় শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম চলে আসছিল। সম্প্রতি স্থানীয় মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে রুটিন কার্যক্রম নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

মাদ্রাসার বড় হুজুর মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম খান জানান, “ফজরের নামাজের পর নিয়মিত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করা হতো। মসজিদের এক কোষাধ্যক্ষের সাথে মতবিরোধের জেরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংস হামলা চালানো হয়। এই সংঘর্ষের সময় আক্রমণকারীরা মাদ্রাসার পবিত্র কোরআন শরিফ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং রড দিয়ে সবাইকে বেধড়ক পেটায়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর কর্তৃত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটিত বিরোধের বাস্তব চিত্রটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তানভীরের ভাষ্যমতে, “আমরা ফজরের নামাজের পর মসজিদে আমল করছিলাম। এ সময় আব্দুল হামিদ নামের এক ব্যক্তি আমাদের ইবাদতে বাধা দেন। বিষয়টি মসজিদ কমিটিকে জানালে তারা আমাদের আমল চালিয়ে যেতে বলে। এরপরও আব্দুল হামিদ বাধা দিলে এবং হুজুরের ওপর চড়াও হলে তাকে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।” এর জের ধরেই আব্দুল হামিদ তার ছেলে এবং লোকজনসহ চারজনের একটি দল নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায় বলে তানভীর অভিযোগ করেন। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে ইট দিয়ে ভাঙচুর করে এবং আমার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে। এছাড়া তারা হুজুরসহ উপস্থিত সবাইকে মারধর করে এবং ঘরের ভেতর আটকে রাখে। অতর্কিত হামলায় প্রাণভয়ে উপস্থিত অনেকেই তখন দৌড়াদৌড়ি করে পালিয়ে যায়।”

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ সাকিব এ হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আব্দুল হামিদ নামের পরিচিত হামলাকারী আশেপাশের লোকজনের ওপর নির্বিচার হামলা চালায়। আক্রমণকারী কেবল ঘরের ভেতরেই মারধর সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং পাশের বাড়িতে ঢুকে যাকেই সামনে পেয়েছে তাকেই প্রহার করেছে এবং ঘরের ভেতরে থাকা নারীদের সাথেও অসদাচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করেছে।” সাকিবের মতে, হামলাকারীর উচ্ছৃঙ্খল ও আগ্রাসী আচরণ প্রমাণ করে যে তারা কতটা বেপরোয়া ছিল।

হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. গিয়াস উদ্দিন। তার ছেলেসহ বেশ কয়েকজন এ হামলায় আহত হয়েছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ দুপুরে চল্লিশা বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

নেত্রকোনা জেলা খেলাফত আন্দোলনের সদস্য সচিব ও নেতা গাজী আব্দুর রহিম রুহি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নেত্রকোনার চল্লিশা ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসায় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অপ্রত্যাশিত সহিংসতায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং মাদ্রাসার আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পবিত্র কোরআনের ছোট শিক্ষার্থীরাও “

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাঙ্গনের ওপর এমন আক্রমণ অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে আব্দুর রহিম অপরাধীদের যথাযথ পরিচয় বা প্রভাবের তোয়াক্কা না করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের কাছে তার মূল দাবি হলো দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন পবিত্র স্থানে হামলা করার সাহস না পায়।

নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে এবং এ বিষয়ে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাকে ধরতে পারলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনা শুধু ধর্মীয় অনুভুতিতেই আঘাত হানেনি, বরং সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রতিও বড় হুমকি। প্রশাসনের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা, যাতে এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। একইসাথে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজপতিদেরও এগিয়ে আসতে হবে যাতে সমাজে সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় থাকে।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version