নিজস্ব প্রতিবেদক: বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে আর দশজন সাধারণ যাত্রীর মতোই তারা গন্তব্যে চলেছেন। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, হাতে টানা ট্রলি। কিন্তু এই সাধারণ প্রাত্যহিক চেহারার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল সর্বনাশা বিষ। যাত্রীর ছদ্মবেশে বাসে উঠে অভিনব কায়দায় মাদক পাচারের পথে এবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়লেন দুই পেশাদার মাদক কারবারি।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শরীয়তপুর জেলার মো. আসাদ মিয়া (৪২) এবং মাদারীপুর জেলার মো. রানা (২৪)।
রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবি-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে সংস্থাটির মিডিয়া অফিসার ও সহকারী পরিচালক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এতথ্য তথ্য নিশ্চিত করেন।
এরআগে, গতকাল (শনিবার) রাতে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের রঘুরামপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় সিরাপসহ তাদের গ্রেফতার করেছে সিপিএসসি, এসআরবি-১৪।
মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে কারবারিরা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে ছিল এসআরবি-১৪ এর আভিযানিক দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ময়মনসিংহ সদরের কোতোয়ালী থানাধীন রঘুরামপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসায় তারা।
এ সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়া ‘আলিফ সুপার’ নামক যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসের অন্য যাত্রীদের ভিড়ে মিশে থাকা দুজনের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন, তাদের কাছে থাকা কাঁধের ব্যাগ ও ট্রলিতে বিশেষ কায়দায় মাদকদ্রব্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ব্যাগ ও ট্রলি তল্লাশি করে ৪৩৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ২৯৩ বোতল ‘এসকাফ সিরাপ’ এবং ১৪০ বোতল ‘ফেয়ার ডিল সিরাপ’ ছিল। মাদকের এই চালানের পাশাপাশি মাদক বেচাকেনার নগদ ১৪ হাজার সাতশো টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তারা দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে আসছিলেন। এরপর সেগুলো ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবসমাজের কাছে বিক্রি করতেন।
এ বিষয়ে এসআরবি-১৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চাঞ্চল্যকর অপরাধ দমন, জঙ্গি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়নে এমন অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা এই ব্যাধিকে সমূলে উৎপাটন করা যায়।
ইতিমধ্যেই গ্রেফতারকৃত দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দকৃত আলামতসহ তাদের ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




