শনিবার, অক্টোবর ১০

কেন্দুয়া প্রতিনিধি: গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে খাল-বিলের দেশীয় মাছ। একশ্রেণির অসাধু মানুষের পাতা ‌‘চায়না দুয়ারি’ আর ‘কারেন্ট জাল’ নামের নিষ্ঠুর মারণফাঁদে প্রতিনিয়তই বিপন্ন হচ্ছে আমাদের অমূল্য জলজ প্রাণবৈচিত্র্য। নীরব এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে প্রকৃতির অন্যতম উপহারকে বাঁচাতে এবার ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা প্রশাসন। একদিকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করা হয়েছে সর্বনাশা নিষিদ্ধ জাল, অন্যদিকে সেই একই জলেই অবমুক্ত করা হয়েছে আগামীর সম্ভাবনা- অসংখ্য নতুন পোনামাছ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকি এলাকার মোড়াই বিলে ভিন্নমাত্রার অভিযান পরিচালিত হয়। কঠোরতা ও মমত্ববোধের এমন মেলবন্ধন স্থানীয় সব শ্রেণিপেশার মানুষের মন জয় করেছে।

দুপুর গড়িয়ে তখন ১টা। চিরচেনা মোড়াই বিলে হঠাৎ উপস্থিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অসাধু চক্র সটকে পড়লেও, বিলের পানিতে পাতা ছিল সেই মৃত্যুর ফাঁদ। অভিযান চালিয়ে বিলের বুক থেকে একে একে তুলে আনা হয় আনুমানিক একশো মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ জালগুলো উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে চিরতরে ধ্বংস করা হয়। তবে এ সময় কাউকে হাতেনাতে না পাওয়ায় আটক বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল হলো জলজ প্রাণীর জন্য বড় অভিশাপ। এসব জালে শুধু বড় মাছই নয়; মাছের রেণু, পোনা থেকে শুরু করে জলজ কীটপতঙ্গ, এমনকি উপকারী জলজ প্রাণীরাও আটকা পড়ে অকালে মারা যায়। নির্বিচারে এমন নিধনের ফলেই দিন দিন আমাদের পাত থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে সুস্বাদু সব দেশীয় মাছ। গভীর শঙ্কা ও দায়বদ্ধতা থেকেই প্রশাসন এমন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তবে এ অভিযানের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটি ছিল ধ্বংসের ঠিক পরেই সৃষ্টির আয়োজন। মারণফাঁদ পুড়িয়ে ফেলার পর বিলের পরিবেশ যখন অনেকটা নিরাপদ হলো, ঠিক তখনই সেখানে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করা হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় ‘বিল নার্সারি’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মোড়াই বিলের স্নিগ্ধ পানিতে অবমুক্ত করা হয় অসংখ্য পোনামাছ। একদিকে পোড়া জালের ছাই, অন্যদিকে জলের বুকে নতুন পোনার প্রাণবন্ত ছুটাছুটি- প্রকৃতি যেন নতুন আশ্বাস ফিরে পায়।

পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী অভিযানে নেতৃত্ব দেন কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী। তার সঙ্গে উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একদল নিবেদিতপ্রাণ সদস্য।

প্রশাসনের এমন দূরদর্শী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক, জেলে, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সর্বসাধারণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, দেশীয় মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, জলজ প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল নিরাপদ রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বাংলার জলাশয়গুলো ফিরে পাক তাদের হারানো যৌবন, বেঁচে থাকুক আমাদের দেশীয় মাছ- এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version