নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) নবীন কর্মকর্তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হলো মাঠ সমীক্ষা।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সাভারের বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) চলমান ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের অংশ হিসেবে ১৫ জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় পরিদর্শন করেন। ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারক ও প্রশাসকদের আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আন্তরিক ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দুপুর ১২টায় বিভিন্ন ক্যাডার থেকে মনোনীত ১৫ জন কর্মকর্তা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। নেত্রকোনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে নবীন কর্মকর্তাদের বরণ করে নেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রেজওয়ান আহমেদ (পিপিএম)।
পরিদর্শনের মূল পর্বে প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাদের সামনে হাওর-বাঁওড় ও পাহাড় ঘেরা নেত্রকোনার সুদীর্ঘ ইতিহাস, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অথচ প্রাণবন্ত রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এরপর জেলা পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে তথ্যবহুল ও আধুনিক মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এতে জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে তাদের বহুমুখী কৌশল এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
প্রেজেন্টেশনে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাইবার অপরাধ দমন, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান জিরো টলারেন্স অভিযান এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক অর্জন ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপগুলো কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
পরবর্তীতে উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান আহমেদ অত্যন্ত সাবলীলভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি জনবান্ধব, চরম পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে জেলা পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাঠ সমীক্ষা নবীন ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে তারা মাঠ প্রশাসনের বাস্তব কার্যক্রম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ভূমিকা সম্পর্কে গভীর ও প্রায়োগিক জ্ঞান লাভ করেছেন- যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
আন্তরিকতাপূর্ণ এই আয়োজনে জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও উপস্থিত থেকে নবীন কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মাহফুজা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বজল কুমার সরকার।




