নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনীতির বাইরেও যে সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক বিশাল আকাশ রয়েছে, তারই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইসিস) হয়ে শয্যাশায়ী কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজল। উপার্জনক্ষম মানুষটির এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অসুস্থতায় চরম আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার। গভীর এই দুর্দিনে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি; উপহার দিয়েছেন উপার্জনের নতুন এক মাধ্যম- একটি অটো ইজিবাইক।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে আবেগঘন পরিবেশে কলমাকান্দা উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজারস্থ ‘কলমাকান্দা মটরস’ শোরুমে সাজ্জাদুর রহমান সাজলের পরিবারের সদস্যদের হাতে ইজিবাইকটি তুলে দেওয়া হয়। মূলত অভাবের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে পরিবারটি যেন পুনরায় আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেই মহৎ উদ্দেশ্য থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অসুস্থ সাজলের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। পরিবারের মূল উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি কাজ করতে না পারায় সংসারের চাকা যেন পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল। চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার সময়ে এমন উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত তারা। পরিবারের সদস্যরা জানান, ইজিবাইকটি তাদের অন্ধকার জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। এমন মহানুভবতার জন্য তারা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ইজিবাইক হস্তান্তর কার্যক্রমে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে পরিবারটিকে সাহস জোগান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ খায়ের, সহ-সভাপতি এম এ মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর নাজিম ও মো. রফিকুল ইসলাম।
এছাড়াও সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম জহির, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আজাদ (আইনল) এবং ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইশতিয়াক হাসান সৌরভসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা মনে করেন, কেবল দলীয় পরিচয় নয়, বরং একজন অসুস্থ মানুষের অসহায় পরিবারের সংকটময় মুহূর্তে এভাবে পাশে দাঁড়ানো প্রকৃত মানবিকতারই বহিঃপ্রকাশ। তাদের প্রত্যাশা, ইজিবাইকের আয়ের ওপর ভর করে পরিবারটি ধীরে ধীরে তাদের বর্তমান আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে এবং সমাজে এমন মানবিক দৃষ্টান্ত আরও প্রসারিত হবে।




