নিজস্ব প্রতিবেদক: সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে নিজেদের শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য এবং অধিকার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা সম্ভব। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নেত্রকোনায় আয়োজিত হলো ব্যতিক্রমী ও যুগোপযোগী সচেতনতা সভা। এতে ৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় শহরের কান্দি এমইউ আলিম মাদ্রাসায় তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে ‘যৌন স্বাস্থ্য অধিকার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছিল তরুণদের মেলবন্ধনে। গৎবাঁধা সভার বাইরে গিয়ে এটি ছিল মূলত তরুণ-তরুণীদের সাথে উন্মুক্ত মতবিনিময়, যেখানে তাদের নানা সংকোচ ও না-বলা প্রশ্নগুলো গুরুত্ব পায়।
সভায় যৌন স্বাস্থ্য অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ও তথ্যবহুল আলোচনা উপস্থাপন করেন নেত্রকোনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার সামিয়া সানজানা। তিনি বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন, প্রজনন স্বাস্থ্যবিধি এবং নিজেদের সুরক্ষা ও অধিকার নিয়ে তরুণ-তরুণীদের বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণা দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বাচ্চু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিজা খাতুন। তিনি সমাজে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রাসঙ্গিক ও প্রেরণাদায়ী বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সদস্য মাহবুবল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, কান্দি এমইউ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আজিম উদ্দিন, জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সদস্য আব্দুল হাই এবং স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির ব্যবস্থাপক কোহিনূর বেগম। বক্তারা প্রত্যেকেই সামাজিক অবক্ষয় রোধে এবং সচেতনতার প্রসার ঘটাতে এ ধরনের আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকার ও প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন মাসুম ইবনে জয়নাল। এছাড়া সভার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলায় নিরলসভাবে সহযোগিতা করেন স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির প্রতিনিধি অলিভিয়া আক্তার এবং জেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরামের সক্রিয় সদস্য শুভ রজক ও সুশান্ত পাল।
তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সভাটি কেবল তথ্যের আদান-প্রদানই ছিল না, বরং এটি ছিল যৌন স্বাস্থ্য ও অধিকার নিয়ে সমাজে প্রচলিত ট্যাবু ভাঙার সাহসী পদক্ষেপ। উপস্থিত সুধীজনদের প্রত্যাশা, এই আলোচনা তরুণ প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বড় ভূমিকা পালন করবে।




