নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত, স্বচ্ছ ও ঝুঁকিমুক্ত করার লক্ষ্যে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জনপ্রিয় মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’। মানি লন্ডারিং, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধ লেনদেনের মতো অপরাধ থেকে তৃণমূলের উদ্যোক্তাদের সুরক্ষিত রাখতে এবং গ্রাহকদের নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে আয়োজিত হয়েছে এক বিশেষ সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের টেঙ্গাপাড়া এলাকার নগদ কার্যালয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করে নগদ-এর স্থানীয় পরিবেশক ‘মেসার্স তমাল অটো রাইস মিল’। প্রথাগত নির্দেশনার বাইরে গিয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মূল ফোকাস ছিল কীভাবে ডিজিটাল আর্থিক সেবাকে প্রতারক চক্রের হাত থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধগুলো যখন প্রতিনিয়ত নতুন রূপ নিচ্ছে, তখন প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উদ্যোক্তাদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেবা পরিচালনা, সঠিকভাবে গ্রাহকের পরিচয় ও লেনদেনের তথ্য যাচাই এবং যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
উদ্যোক্তাদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, কোনোভাবেই নিজেদের ব্যবসায়িক ওয়ালেট অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া যাবে না। অনেক সময় না বুঝেই অন্যের হাতে ওয়ালেট তুলে দিলে তা প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এটি শুধু নগদ-এর নীতিমালারই পরিপন্থি নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইনেও তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তাই নিজ নিজ ওয়ালেটের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজনটি কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কোনো লেনদেনকে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিক করণীয় কী, তা হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয় উদ্যোক্তাদের। বিশেষ করে, নগদ উদ্যোক্তা অ্যাপের মাধ্যমে কীভাবে ‘এসটিআর’ (Suspicious Transaction Report – STR) ফরম পূরণ করতে হয়, প্রয়োজনীয় তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করতে হয় এবং দ্রুততম সময়ে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হয়- সেসব বিষয়ে বাস্তবিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
গ্রাহকদের সাথে দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। আয়োজনের শেষাংশে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার সাবলীল সমাধান দেন কর্মকর্তারা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তারাই ডিজিটাল আর্থিক সেবার মূল চালিকাশক্তি। তারা যেন কোনোভাবেই অনিচ্ছাকৃতভাবে আইনি জটিলতা বা প্রতারণার ফাঁদে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা নগদ-এর অন্যতম লক্ষ্য। ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি নিরাপদ, আইনসম্মত ও গ্রাহকবান্ধব ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নগদ-এর পরিবেশক মেসার্স তমাল অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মাসুদ মিয়া। এছাড়াও দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন নগদ-এর রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার এ এস এম মোহাইমিনুল ইসলাম, এরিয়া ম্যানেজার সামসু মিয়া, টেরিটোরি ম্যানেজার মো. রেজাউল আফসার, হাউজ ম্যানেজার কৌশিক সরকার, হাউজ সুপারভাইজার আনন্দ শেখ ও মিজানুর রহমান সুমন এবং হাউজ আইটি সমীর কুমার রায়।
মেসার্স তমাল অটো রাইস মিলের আওতাধীন নগদ উদ্যোক্তা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন এবং নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




