রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্টেডিয়াম। উদ্বোধনের পর থেকেই পরিশোধ হয়নি বিদ্যুৎ বিল। একপর্যায়ে বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি। শেষ পর্যন্ত বিল আদায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে নীলফামারীর ডিমলার একমাত্র মিনি স্টেডিয়ামটি এখন সন্ধ্যা হলেই ডুবে যাচ্ছে অন্ধকারে। ব্যাহত হচ্ছে ক্রীড়া কার্যক্রম, তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ।
ডিমলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন আয়োজন ঘিরে এখানে আসেন খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, অতিথি ও দর্শকেরা। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ফ্যান, মাইকসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারছেন না আয়োজকেরা।
গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা চলাকালে স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক সুবিধাগুলো বন্ধ। গরমের মধ্যে মাঠে অবস্থান করতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের। ভোগান্তিতে পড়ছেন দর্শক, কর্মকর্তা ও অতিথিরাও।
দিনের আলোয় কোনোভাবে খেলা ও অন্যান্য কার্যক্রম চললেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। মাঠ, গ্যালারি, প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় অন্ধকার নেমে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্ধকারের সুযোগে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছে। মাদকসেবীদের আড্ডা বসার অভিযোগও রয়েছে।
মিনি স্টেডিয়ামে কাবাডি খেলতে আসা লিলি আক্তার বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় খেলোয়াড়, আয়োজক ও অতিথিদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের সময় ফ্যান না চলায় ভোগান্তি বেশি হয়। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা প্রয়োজন।”
খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. রবিউল ইসলাম লিখন বলেন, “বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে পড়ে। এতে মাদকসেবী ও অনলাইন জুয়াড়িদের আড্ডা বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। আলো থাকলে এসব কর্মকাণ্ডে নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হতো। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা দরকার।”
ডিমলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. মাসুদ আলম বলেন, বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়ে জেনারেল ম্যানেজারের মাধ্যমে জেলা পরিষদে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও চিঠি দেওয়া হয়। সরকারি রাজস্ব বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “মিনি স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়টি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বকেয়া বিল পরিশোধ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর এর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেডিয়ামটির উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের দাবি, শুধু বকেয়া বিল পরিশোধ করে সংযোগ চালু করলেই হবে না; মাঠ, গ্যালারি ও প্রবেশপথে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখার জন্য নির্মিত স্টেডিয়ামটি নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।




