নিজস্ব প্রতিবেদক: দিন কিংবা রাত, এখন থেকে আর নেই অজানা কোনো শঙ্কা। চুরি, ছিনতাই, যানজটের মতো নিত্যদিনের দুর্ভোগ আর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লাগাম টানতে নতুন যুগে প্রবেশ করছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহর। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘ডিজিটালি সিকিউরড’ বা প্রযুক্তিগতভাবে সুরক্ষিত শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুরো পৌর এলাকাকে মুড়ে ফেলা হচ্ছে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরার নিশ্ছিদ্র পাহারায়।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের একান্ত উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনায় আধুনিকায়নের যুগান্তকারী এই পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন তিনি।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি স্পিকারের সার্বিক সহযোগিতায় দুর্গাপুর পৌরসভা ও দুর্গাপুর বণিক সমিতির যৌথ বাস্তবায়নে শহরের বুকে ৭০টি অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত বেশি থাকে এমন ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম স্থানকে আনা হচ্ছে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায়। এর মধ্যে রয়েছে- সুসং সরকারি কলেজ এলাকা, উপজেলা মোড়, প্রেসক্লাব মোড়, বড় বাজার, নদীরঘাট, তেরীবাজার, বাসস্ট্যান্ড ও থানা মোড়।
প্রযুক্তির এই ছোঁয়া পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের নাগরিকরা। দীর্ঘদিনের যানজট ও টুকটাক অপরাধের অবসান হবে- এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
দুর্গাপুর বণিক সমিতির সভাপতি রণজিৎ সেন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ডেপুটি স্পিকার মহোদয় দুর্গাপুরকে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে যে দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শহরে মাদক ব্যবসাসহ নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিসি ক্যামেরাগুলো পুলিশের জন্য দারুণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে থানা পুলিশ সবসময় সচেষ্ট। তবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং অপরাধ দমন করা বহুগুণ সহজ হবে। এমন সময়োপযোগী উদ্যোগের জন্য তিনি ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান।
পৌরশহরের সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং দুর্গাপুর পৌর প্রশাসক আহমেদ সাদাত জানান, দুর্গাপুরকে নিরাপদ ও শান্তির নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তারা বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, “ডেপুটি স্পিকার মহোদয়কে সাথে নিয়ে আমরা নানা উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ৭৫টির মতো সিসি ক্যামেরা স্থাপনের এই কাজ সম্পন্ন হলে শহরটি শুধু নিরাপদই হবে না, বরং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যানজট নিরসনেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
সব মিলিয়ে, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে দুর্গাপুরের দৃশ্যপট। নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল নজরদারি শুধু অপরাধ প্রতিরোধ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরই উন্নয়ন ঘটাবে না, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ফিরিয়ে আনবে অনাবিল স্বস্তি ও নিরাপত্তা। আধুনিক শহরের দিকে দুর্গাপুর যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।




