উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদক, জুয়া, অনলাইন ক্যাসিনো, বাল্যবিবাহ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের রেলস্টেশন এলাকায় এ আইনশৃঙ্খলা ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সোহাগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্রাট কবীর বিপুলের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ রুমন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি সাজ্জাদ রুমন বলেন, মাদক, জুয়া, অনলাইন ক্যাসিনোসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।
একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হলে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, নিজ নিজ এলাকার অপরাধ, মাদক কারবারি, জুয়া, কিশোর অপরাধ কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যেকোনো অপরাধের তথ্য পুলিশকে দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ, মাদক ও কিশোর অপরাধ সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এসব অপরাধ প্রতিরোধে অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সোহাগী বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজমুল হুদা গোলাপের সঞ্চালনায় সভায় অন্যানের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, সোহাগী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক ফকির, সদস্য সচিব মাহফুজুল ইসলাম শিখন, যুগ্ম আহ্বায়ক নাছরুউল্লাহ খান মোজাহেদী, আব্দুল কাদির, সারোয়ার হোসেন হিমেল, ইউপি সদস্য ও যুগ্ম আহবায়ক আক্কাস সাকিব, ফিরুজ আলী খান, জাকারিয়া খান প্রমুখ।
এছাড়াও সোহাগী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ সভায় অংশ গ্রহণ করেন। সভায় উপস্থিত বক্তারা এলাকায় মাদক, জুয়া, চুরি, ছিনতাই ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়। বিট পুলিশিং ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।




