জাহিদুল ইসলাম ডিমলা:

দ্যা মেইল বিডি ডট কমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম নীলফামারীর ডিমলা খাদ্যগুদামে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে দুই কর্মকর্তা বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর ডিমলা সরকারি খাদ্য গুদামের খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ (বদলি) করা হয়েছে। স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন-ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনার রশিদ ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নবাব।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ চন্দ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মামুনার রশিদকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ও নবাবকে পটুয়াখালীর গলাচিপার পাতাবুনিয়ায় স্ট্যান্ড রিলিজ(বদলি) করা হয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসে দ্যা মেইল বিডি ডট কমসহ ডিমলা খাদ্য গুদামের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন বস্তা বিক্রিসহ ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ শিরোনামে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এর পর নীলফামারী জেলা খাদ্য বিভাগ তিন সদস্যের ও খাদ্য অধিদপ্তর এক সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। তারও আগে গত মে মাসে, বিভিন্ন গণমাধ্যম দুই কর্মকর্তার ঘুষ বানিজ্যে ক্ষতি দেড় কোটির অধিক” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এবং গত মে মাসে “টিসিবির ডিলাদের দিয়ে পঁচা-দুর্গন্তযুক্ত চাল বিক্রির বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তখনও জেলা খাদ্য বিভাগ দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন।

সেই তদন্ত আলোর মুখ না দেখলেও সবশেষ তদন্ত কমিটি দুটির মধ্যে জেলা খাদ্য বিভাগের করে দেওয়া তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা না বলে ডিলারদের কাছ থেকে কোনো রকমের আর্থিক লেনদেন হয়নি মর্মে স্বাক্ষর নিয়ে দায়সারা তদন্ত করে ভুড়িভোজ খেয়ে চলে যান। পরবর্তীতে গত ২৭ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তরের এক সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ও রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালেহ আজিজ ডিমলা খাদ্য গুদামে তদন্তে আসেন।

তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় গুদামের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে প্রমানসহ উপস্থাপন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান ডিমলা খাদ্য গুদামে আকস্মিক অডিটে আসেন। তার দিনব্যাপী অডিটে খাদ্য গুদামের বস্তা, চাল ও ধানের হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে গড়মিল ও অনিয়ম ধরা পরে যায়।

পরে ওই তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক (মামলা ও তদন্ত শাখা) ফজলে রাব্বি হায়দারের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা গুদামে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন। তারাও বিভিন্ন গড়মিল ও অনিয়ম দেখতে পান বলে একাধিক গোপন সুত্রে জানা যায়। যার কারণে তাৎক্ষণিক সাময়িকভাবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের চাল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরেরদিনই অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed by themailbd.com.
Exit mobile version