নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনায় যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-পূর্ব) নেত্রকোনা মডেল থানা ও পূর্বধলা থানা এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে অনলাইনে জুয়া খেলারত অবস্থায় তিন জুয়াড়িকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, প্রেরিত পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় নেত্রকোনা পৌরসভার কাটলী ব্রিজ এলাকায়। শুক্রবার (দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে জেলা গোয়েন্দা শাখা (পূর্ব) এর এসআই (নিঃ) রাজীব চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে হানা দেয়। এ সময় কাটলী ব্রিজের পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি মুদি দোকানের ভেতরে বসে অনলাইনে জুয়া খেলার সময় দুজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- কাটলী এলাকার মাহমুদুর রহমান খাঁন হামদুরের ছেলে ও ওই মুদি দোকানের মালিক তৌহিদ হাসান খাঁন ওরফে রকিব (৪২) এবং একই এলাকার মো. নাসির উদ্দিনের ছেলে মো. রিপুল উদ্দিন (২৪)। আটকের সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন এবং প্রমাণস্বরূপ জুয়া খেলার ১৩৬ পাতা স্ক্রিনশট জব্দ করে পুলিশ। এঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬’ এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এরআগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয় জেলার পূর্বধলা থানা এলাকায়। রাত ১০টা ২০ মিনিটে ডিবির এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে আরেকটি দল শ্যামগঞ্জ বাজারে অভিযান চালায়। সেখানে সাইদুর ইলেকট্রনিক্স নামক দোকানের সামনে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ গামী পাকা রাস্তার ওপর বসে অনলাইনে জুয়া খেলার সময় মো. রাজিব মিয়া (৪০) নামের আরেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি পূর্বধলা থানার হাট বারেঙ্গা গ্রামের মৃত স্বপন মেম্বারের ছেলে। আটকের সময় তার কাছ থেকে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন এবং ১৪ পাতা স্ক্রিনশট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় পূর্বধলা থানায় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬’ এর দুটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকেই যথাযথ পুলিশ পাহারায় শুক্রবার জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, যাতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ। সমাজ থেকে এমন ব্যাধি দূর করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।



