নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে অপহৃত এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৩) দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস পর ঢাকার উত্তরা থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একই সঙ্গে অপহরণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. নাঈমকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে র্যাব-১৪ (সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল) এবং র্যাব-১ (সিপিসি-২, উত্তরা) এর একটি দল ঢাকার উত্তরা এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে মামলার প্রধান আসামি নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া মো. নাঈম টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে অভিযুক্ত নাঈম বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই মাদ্রাসাছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত বছরের ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ওই ছাত্রী নিজ বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। পথে অভিযুক্ত নাঈম তার অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় ওই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে গত বছরের ৩ নভেম্বর টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় নথিভুক্ত করা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব এ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। ভিকটিমকে দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর উত্তরা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় র্যাবের যৌথ আভিযানিক দল।
র্যাব-১৪-এর মিডিয়া অফিসার জানান, উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যেই টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে র্যাবের এ ধরণের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।



