মনিরুজ্জামান খান গাইবান্ধা:
গাইবান্ধা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত সাধারণ রোগী। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার আগেই আউটডোরের (বহিঃবিভাগ) চিকিৎসকরা কর্মস্থল ত্যাগ করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেলা ২:৩০ টা পর্যন্ত বহিঃবিভাগ খোলা থাকার কথা থাকলেও দুপুর ১২:৩০টার পর থেকেই অধিকাংশ চিকিৎসক নিজ নিজ কক্ষ ত্যাগ করেন। গত ১৬ আগস্ট দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে হাসপাতালের নতুন ভবন ঘুরে দেখা যায়, পুরো আউটডোরে মাত্র তিনজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন—চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. মিনু, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ড. সেলিম পোদ্দার এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ড. সোহেল।
বাকি চিকিৎসকরা দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই নিজ দায়িত্বে কর্মস্থল ত্যাগ করায় সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ, উত্তেজনা ও অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই চিকিৎসকরা ডিউটি চলাকালীন ‘ওয়ান কলে’ ব্যক্তিগত রোগী দেখতে বা ক্লিনিকে চলে যান। জানা যায়, হাসপাতালে ডাক্তার আছেন ২৪ জন (সংযুক্ত ও প্রেষণসহ)।
Advertisementএ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. শহিদুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করেই তড়িঘড়ি করে নিজ কক্ষ ত্যাগ করেন। হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা।চিকিৎসক সংকট ও নিয়মানুবর্তিতার অভাবের পাশাপাশি হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তি থাকা রোগীদের মাঝেই বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ দেখা গেছে।
এতে করে রোগীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সরকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবেই সাধারণ মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান অনিয়ম ও অরাজকতা দূর করতে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধার



