মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও যোগাযোগপথে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে জেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অসাধু চক্র বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের চেষ্টা করে। এ কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাজার, মহাসড়ক, রেলপথ ও অন্যান্য প্রবেশপথেও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক প্রবেশের কারণে যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও মাদক বিক্রি, পরিবহন বা সেবনের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে স্থানীয় জনসাধারণকে এগিয়ে আসতে হবে।

জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা থাকলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু মাদক উদ্ধার নয়, বরং মাদক পাচার ও কারবারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে আইনের আওতায় এনে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, জেলা পরিষদের সম্পদ রক্ষা, আয় বৃদ্ধি এবং সেই অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করাই জেলা পরিষদের প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন অবহেলিত ও বেহাত হওয়া সম্পদ উদ্ধার, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব জেলা পরিষদ গড়ে তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন জেলা পরিষদের অনেক সম্পত্তির যথাযথ তদারকি হয়নি। অনেক জায়গার বিএস রেকর্ড সম্পন্ন হয়নি। ফলে জেলা পরিষদের মালিকানার সম্পদ অনেক ক্ষেত্রে অন্যের নামে চলে গেছে কিংবা দখলে রয়েছে। এখন এসব সম্পদের তালিকা প্রস্তুত করা এবং আইনগতভাবে উদ্ধার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা পরিষদের প্রতিটি সম্পদ জনগণের সম্পদ। এগুলো রক্ষা করা এবং সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে জেলা পরিষদের আয় বাড়ানোই এখন পরিষদের প্রধান লক্ষ্য।

জেলা পরিষদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি আধুনিক বহুমুখী ১০ তলা কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত ভবনের নিচতলা ও প্রথম তলায় থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় থাকবে আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার, যেখান থেকে জেলা পরিষদ নিয়মিত ভাড়া থেকে আয় করতে পারবে। চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় অফিস স্পেস নির্মাণ করা হবে, যা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া সম্ভব হবে। ষষ্ঠ থেকে দশম তলা পর্যন্ত থাকবে আবাসিক কক্ষ ও ফ্যামিলি স্যুট। সর্বোচ্চ তলায় থাকবে একটি আধুনিক রেস্টুরেন্ট।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি লাভজনক প্রকল্পে পরিণত হবে। এছাড়া একই কমপ্লেক্সে একটি আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, জেলা পরিষদ এমন সব এলাকায় কাজ করতে চায়, যেখানে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা সহজে পৌঁছায় না। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ সরকারিকরণ অনুষ্ঠানে এলে তাঁর সঙ্গে করমর্দনের সুযোগ হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলীয় কর্মী হিসেবে জেলায় দায়িত্ব পালনে সুযোগ পেয়েছি। এখন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে দেশগঠনে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান দায়িত্ব মূলত জেলা পরিষদের প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করার জন্য দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে আরও বৃহৎ পরিসরে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে চাই।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed by themailbd.com.
Exit mobile version