সানজিদা আক্তার মিরা,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করল। সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সাবেক সেনাপ্রধান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ মোট ৪১ জন। প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, ভিডিওচিত্র, স্থিরচিত্র ও বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরবর্তী সময়ে আইনি যাচাই-বাছাই শেষে সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় ঢাকাসহ চার জেলায় মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় বর্তমানে ৯ জন আসামি গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা শাহরিয়ার কবির এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা। অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গ্রহণের বিষয়ে শিগগিরই শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির করতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রসিকিউশনের দাবি। এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেবেন।



