নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচারকালে সুনামগঞ্জের এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের একটি অভিযানিক দল। এ সময় তার কাছ থেকে দুই হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নেত্রকোনা জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মাহমুদুল হাছান (৩৮)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানাধীন চামরদানী ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের মৃত আমির উদ্দিন এবং মৃত রমিজা খাতুনের ছেলে।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টা ১০ মিনিট থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নেত্রকোনা সদর থানাধীন চল্লিশা ইউনিয়নের চল্লিশা বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাবুল মিয়া নামক এক ব্যক্তির মুদি দোকানের দক্ষিণ পাশে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহগামী পাকা রাস্তার ওপর অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে রেইডিং টিম। এ সময় সন্দেহভাজন একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করা হলে মাহমুদুল হাছানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
তল্লাশিকালে আসামির কাছ থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় দুই হাজার পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। কালো রঙের সিনথেটিক শপিং ব্যাগের ভেতর সাদা রঙের ব্যাগে জিপারযুক্ত চারটি পলি প্যাকেটে এসব ইয়াবা রাখা ছিল (প্রতিটিতে ৫০০ পিস করে)। উদ্ধারকৃত দুইমো গ্রাম ওজনের এসব মাদক অবৈধ বাজারমূল্য আনুমানিক আট লক্ষ টাকা।
এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে মাদক কারবারে ব্যবহৃত নিচের সরঞ্জামগুলো জব্দ করা হয়- মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি লাল রঙের মোটরসাইকেল, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সিমযুক্ত রিয়েলমি ব্র্যান্ডে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এবং দেড় হাজার টাকা মূল্যের একটি সিম্ফনি বাটন মোবাইল এবং মাদক বিক্রির নগদ দেড় হাজার টাকা।
নগদ অর্থ ব্যতীত জব্দকৃত ইয়াবা, মোটরসাইকেল এবং মোবাইল ফোনের সর্বমোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ লক্ষ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা।
আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক বলেন, “আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার এবং জিরো টলারেন্স নীতিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।”



