শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

অল্প কয়েকদিন আগেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ছিল ফসল ও সবজি খেতের সবুজ সমারোহ। আউশ ধান, আমনের বীজতলা আর মৌসুমি সবজির ফলন দেখে কৃষকের চোখে মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ফলানো সেই ফসল ঘরে তুলে ঋণ শোধের পাশাপাশি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাদের।

তবে আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই সব স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে শুধুই কাদামাটিতে চাপা পড়ে থাকা কৃষকের ঘাম, শ্রম ও নিঃশ্বাসের নির্মম চিহ্ন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ক্ষত-বিক্ষত জমি আর হতাশ কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। তবুও বুকভরা কষ্ট চেপে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে মাঠে নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

সাম্প্রতিক এ বন্যায় উপজেলার আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জমিতে বানের জলে সঙ্গে ভেসে আসা পলি ও বালু জমে থাকায় নতুন করে আবাদ শুরু করতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। তবুও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ জমি পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা রোপা আমনের জন্য জমি তৈরি করছেন।

তাদের একটাই লক্ষ্য আমন মৌসুমের মাধ্যমে অন্তত আউশের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ৩০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২৬ হেক্টর সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার মখাবিল এলাকার টমেটো চাষি আব্দুর রহিম আকুতি জানিয়ে বলেন, ঋণ করে দুই কিয়ার জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম।

বানের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। একই এলাকার কৃষক তোফায়েল আহমেদ ও মজিদ খান জানান, তারা তিনজন মিলে ১০ কিয়ার জমিতে টমেটো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ এবং চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু বন্যায় পুরো খেত নষ্ট হয়ে তাদের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পতনউষার ইউনিয়ন এলাকার কৃষক শাহাজাহান মিয়া বলেন, আমাদের এলাকা সরাসরি নদীভাঙনের শিকার না হলেও নিচু হওয়ায় ধানের জমি তলিয়ে যায়। এখন ফসল আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বীজতলা হারানো কৃষক আব্দুল মন্না আক্ষেপ করে বলেন, বানের পানিতে আমার আমনের বীজতলা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে।

এখন কীভাবে রোপা আমনের আবাদ করব বুঝতে পারছি না। কৃষক মরম আলী ক্ষোভ ও কষ্টে বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেছিলাম। এখন সংসার চালানো আর ঋণ শোধ করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

বন্যার আঘাতে স্বপ্ন চুরমার হলেও থেমে নেই কমলগঞ্জের কৃষকরা। ক্ষতি সামলে নতুন আশায় নতুন উদ্যমে আবারও মাঠে ফিরেছেন তারা। প্রান্তিক এ চাষিদের এখন একটাই প্রত্যাশা সরকারি কৃষি সহায়তা যেন দ্রুত তাদের হাতে পৌঁছায়, যাতে আমন মৌসুমে নতুন করে স্বপ্ন বুনতে পারেন তারা। অন্তত পরিবার নিয়ে একবেলা হলেও ভাত তুলে দিতে পারি।”

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version