রুহুল আমিন, ডিমলা(নীলফামারী)
জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই ভিড় শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আতঙ্কে অনেকেই গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করার পাশাপাশি জারিকেন ও বোতলে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করেন। তবে উপজেলা প্রশাসন ও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই; সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গ্রাহক একসঙ্গে তেল নিতে আসায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে তেলের সংকটের খবর শুনে তড়িঘড়ি করে ফিলিং স্টেশনে ছুটে আসেন।
তেল নিতে আসা কয়েকজন চালক বলেন, সংকটের গুজব শুনেই তারা অতিরিক্ত তেল নিতে এসেছেন। পরে লাইনে দাঁড়িয়ে জানতে পারেন, কোথাও সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। গুজবের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার মেসার্স আফতাব, মেসার্স আলম ও মেসার্স তিস্তা ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানান, ডিপো থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহ কমানো বা বন্ধ করার কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। গুজবের কারণেই একসঙ্গে অতিরিক্ত গ্রাহক আসায় চাপ বেড়েছে। সবাই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করলে কৃত্রিম সংকটের কোনো আশঙ্কা থাকবে না।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল কিনবেন না বা মজুত করবেন না। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।”
তিনি বলেন, “সারা দেশের জন্য সরকারের প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সংকটের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”



