নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের তথ্য গোপন করায় বিয়ে বাতিল করেছিল পরিবার। সেই ক্ষোভে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলার পলাতক মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম আল আমিন (৪০) নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানা এলাকার বাসিন্দা।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহের অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, গতকাল (মঙ্গলবার) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহজাহানপুর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিয়ের আলোচনার সূত্র ধরে ভিকটিমের সাথে আসামি আল আমিনের পরিচয় হয়েছিল। পরিচয়ের সুবাদে আল আমিন ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময় ঘুরতে নিয়ে যায় এবং কৌশলে তার কিছু আপত্তিকর ছবি তুলে নিজের কাছে রেখে দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার জানতে পারে, আল আমিন আগে থেকেই বিবাহিত। এ তথ্য জানার পর পরিবার ওই বিয়ের প্রস্তাবটি সাথে সাথে বাতিল করে দেয় এবং ভুক্তভোগীকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। বর্তমানে ওই গৃহবধূ ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এদিকে, বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় চরম ক্ষিপ্ত হয় আল আমিন। সেই আক্রোশ থেকে সে তার কাছে পূর্বে তুলে রাখা আপত্তিকর ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। গত ১৯ জুন বিকেলে বিষয়টি ভিকটিম ও তার পরিবারের নজরে আসে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে গত ৬ জুলাই কলমাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে আসামি আল আমিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ (সদর কোম্পানি) এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কলমাকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে র্যাবের আভিযানিক তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।



