জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর শহরের ডাকপাড়া এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মো. আব্দুল খালেক নামের এক নিরীহ ফল ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর ও নগদ ৯৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
জামালপুর সদর থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই মঙ্গলবার সকালে শহরের ডাকপাড়া এলাকায় ফলের আড়তের মালিক মো. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম ও তার ছোট ভাই মো. কানন এই হামলা চালান। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান শামীম জামালপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের শ্রম ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। ভুক্তভোগী মো. আব্দুল খালেক জামালপুর শহরের গেটপার এলাকার একজন খুচরা ফল ব্যবসায়ী।
নিরীহ ফল ব্যবসায়ী মো. আব্দুল খালেক জানান, কিছুদিন পূর্বে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অভিযুক্ত শামীম তার কাছ থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা ধার নিয়েছিলেন। গত ২১ জুলাই মঙ্গলবার সকালে সেই পাওনা টাকা ফেরত চাইতে শামীমের কাছে যান খালেক। পাওনা টাকা চাওয়ামাত্রই পূর্ব বিরোধের জেরে শামীম ও তার ভাই কানন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা আব্দুল খালেকের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।
মারধরের একপর্যায়ে আব্দুল খালেকের মাথা ও কানে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে তাঁর শরীরে নীলা-ফোলা জখমের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে মারধরের পাশাপাশি নতুন ফল কেনার জন্য তার প্যান্টের পকেটে রাখা নগদ ৯৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন শামীম ও তার ভাই কানন।
এ সময় প্রাণভয়ে আব্দুল খালেক চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে খালেকের স্ত্রী মাহফুজা বেগম ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামীকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফল ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। সেই সাথে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ও তার ভাই কাননের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ছিনিয়ে নেওয়া ৯৫ হাজার টাকা দ্রুত উদ্ধারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



