ঝালকাঠিতে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া মামলায় কারাগারে আটক এক যুবলীগ নেতাকে নির্দোষ দাবি করে জামিন করাতে আদালতে হলফনামা দাখিল করেছেন ২০জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা। কারাগারে আটক যুবলীগ নেতার নাম জাকির হোসেন শামীম (৪০)। পুলিশ প্রতিবেদনে শামীমকে যুবলীগের নেতা ও আমির হোসেন আমুর ক্যাডার দাবী করা হলেও বিএনপি নেতারা তাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এবং মামলার ঘটনার সাথে জড়িত নয় দাবী করেছেন। গত বুধবার ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতে শামীমের জামিন শুনানীকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মতিয়ার রহমান জামিন না মঞ্জুর করেন এবং শামীমের আইনজীবী এপিপি বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মুবিনকে ভৎসনা করেন। জামিন শুনানীর সময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. শাহাদাৎ হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এড. মাহেব হোসেন জামিন শুনানীর সময় হলফনামা দাখিল এবং একজন আইনজীবীকে ভৎসনার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি আদালত পাড়া এবং শহরে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা সৃস্টি করেছে।
গত ১৬জুন ঝালকাঠি থানা পুলিশ বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া জিআর ২০৫/২৪ মামলায় সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেফতার করে। মামলার বাদী ছাত্রদল নেতা সুমন মন্ডল। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সকাল ১১টায় জেলা বিএনপি অফিসে হামলা ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ মামলাটি দায়ের করা হয়। জেলা যুবলীগের আহবায়ক রেজাউল করিম জাকির, যুগ্ম আহবায়ক কামাল শরীফ, আওয়ামী লীগনেতা তরুন কর্মকারসহ ১৪৬ জনকে আসামী করা হয়। এ মামলায় আটক জাকির হোসেন শামীম বিএনপি নেতা এপিপি মিজানুর রহমান মুবিনের ভগ্নিপতি।
যুবলীগ নেতাকে নির্দোষ এবং বিএনপি পরিবারের সদস্য দাবী করে যারা হলফনামা প্রদান করেছেন তাঁরা হলেন ( হলফনামা নং ৭৩০/২৬ নোটারি পাবলিকের নাম এড. মোবাশ্বের আলী ভুইয়া)
ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন খোকন, সহসভাপতি আনিচুজ্জামান চপল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম, সৈয়দ রেজাউল করিম, শহর বিএনপি সভাপতি এড. নাসিমুল হাসান, জেলা বিএনপির সদস্য এড. মিজানুর রহমান মুবিন, এড. মু. শামীম আলম, এড. আল আমিন, সরদার সাফায়াত হোসেন, তাঁতিদলের সভাপতি মো. বাচ্চু হাসান, যুবদল নেতা সেলিম হাসান, মো. সাজিব হোসেন, রুবেল ফকির, মো. নাজমুল মিরাজ, হেমায়েত হোসেন মল্লিক, ফারজানা ইয়াসমিন, মো. তৌহিদ হোসেন, ইয়াসির আরাফাত মিঠু,লাভলী বেগম
উল্লেখিত নেতারা হলফনামায় হলফান্তে ঘোষণা করেন যে, আমরা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা ও পৌর শাখার শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ঝালকাঠি থানায় বিস্ফোরক দ্রব্যনিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া জিআর ২০৫/২৪ (ঝাল) মামলার সাক্ষী বটে। গণপূর্ত অফিসের সামনে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে গত ২২/০২/২০২২ তারিখে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে ০১/০৯/২০২৪ তারিখ ছাত্রদল নেতা সুমন মন্ডল বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা যুবলীগ আহবায়ক রেজাউল করিম জাকির, যুগ্নআহবায়ক কামাল শরীফ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা তরুন কর্মকার, থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদসহ ১৪৬জনকে আসামী করা হয়। হলফনামায় স্বাক্ষরকারী বিএনপি নেতারা দাবি করেন, উক্ত জিআর ২০৫/২৪ মামলার ঘটনার সাথে জাকির হোসেন শামীম পিতা সুলতান হোসেন খান জড়িত নয়। জাকির হোসেন শামীম সিটি পার্ক রোডের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ৯নং ওয়াড যুবদল প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতান হোসেন খানের বড় ছেলে। শামীমের ছোট ভাই শাহীন খান পৌর যু্বদলের যুগ্মআহবায়ক, মা খাদিজা বেগম পৌর মহিলা দলের সাবেক সভাপতি এবং শামীম বর্তমানে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী এবং সাবেক পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্মআহবায়ক। বর্তমানে শামীম শাহী ৯৯ কোম্পানীর সহকারী ম্যানেজার। হলফনামায় আরও দাবী করা হয়, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি কার্যালয়ে গত ২২/০২/২০২২ তারিখ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হামলার ঘটনার সাথে জাকির হোসেন শামীমের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য প্রমান আমরা পাইনি। আমরা সাক্ষীগণ জাকির হোসেন শামীমকে ঘটনাস্থলে কিংবা ঘটনাস্থলের আশপাশের সড়কে তাকে দেখি নাই।কেহ আমাদেকে তাকে দেখার কথা বলে নাই বা কোন তথ্য প্রদান করে নাই। সিসি টিভি ফুটেজে তাহাকে দেখা যায় নাই। সে জড়িত আছে মর্মে আমরা বাদীকে তার নাম সরবারহ করি নাই এবং বাদী তার নাম এজাহারে অন্তভুক্ত করে নাই। সেহেতু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে অত্র মামলার ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে মর্মে গ্রেফতার করিয়া যেইরূপ ফরোয়াডিং বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছে সেইরুপ ঘটনা সঠিক নহে। যেহেতু জাকির হোসেন শামীম স্টেশন রোডের স্থায়ী বাসিন্দা তাহার নূন্যতম সম্পৃক্ততা থাকলে আমরা সাক্ষীগণ বাদীর নিকট তাহার নাম ঠিকানা ও তথ্য দিতাম এবং সে এজাহার নামীয় আসামী হতো। হলফনামায় সর্বশেষ বিএনপি নেতারা দাবী করেন, জাকির হোসেন শামীমকে অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর পূর্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোন সাক্ষী বা বাদীর সাথে কোনরুপ যোগাযোগ করেন নাই কিংবা সাক্ষীগণকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন তথ্য দেন নাই। সেহেতু জাকির হোসেন শামীম মামলায় সম্পৃক্ত না থাকায় তাকে অহেতুক হয়রানী না করার নিমিত্তে আমরা অত্র হলফনামা সম্পাদন করিলাম। এতদার্থে আমরা জিআর ২০৫/২৪ মামলার সাক্ষীগণ স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে অত্র হলফনামা সম্পাদন করিয়া নিম্মে নিজ নিজ নাম সহি সম্পাদন করিলাম।
ব্রেকিং নিউজ
- ঝালকাঠিতে আটক যুবলীগ নেতার জামিন করাতে ২০ বিএনপি নেতার আদালতে এফিডেভিট দাখিল
- তথ্যমন্ত্রীর সাথে মিশরের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতে যৌথ মিডিয়া ফোরাম গঠনের প্রস্তাব
- পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
- বৃষ্টি আসলেই আতংকঃ ভিজে রাত কাটে ৭০ বয়সী মনোয়ায়ার
- সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে : প্রধানমন্ত্রী
- জামালপুরে দোস্ত এইডের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ
- নেত্রকোনায় অবৈধ জালের গুদামে অভিযান: জরিমানাসহ জাল ভস্মীভূত
- শৃঙ্খলা ছাড়া জীবনে বড় হওয়া যায় না: ঢাবিতে ডেপুটি স্পিকার



