নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলায় কালিহর নদীতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত সেই নবজাতকের লাশের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১২ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং মূল অভিযুক্ত সাজন মিয়াকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা পৌনে ৩টার দিকে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৯ জুন সকালে পূর্বধলা থানাধীন কালিহরকান্দা গ্রামের কালিহর নদীতে প্লাস্টিকের রশি ও ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় এক নবজাতক কন্যা শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পূর্বধলা থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ প্রতিবেশী সাজন মিয়াকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, পেশায় কৃষক সাজন মিয়া ওই কিশোরীর মা কর্মস্থলে থাকার সুযোগে আনুমানিক সাত মাস আগে তাকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতেও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় সময়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় পরিবারের কেউ বিষয়টি টের পায়নি।
গত ২৮ জুন রাতে পেটে ব্যথার পর ওই কিশোরী মৃত কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সাজন মিয়া মেয়েটির পরিবারকে ভয়ভীতি দেখায় এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৩০ জুন ভোরে নবজাতকের লাশটি কালো শার্টে পেঁচিয়ে ও ইট বেঁধে উপজেলার কালিহর মাইজপাড়া এলাকায় কালিহর নদীতে ফেলে দেয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত সাজন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হবে।



